ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি কি একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সংসদে প্রশ্ন আখতার হোসেনের

বিএনপি কি একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সংসদে প্রশ্ন আখতার হোসেনের

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সংসদীয় আসনে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তার প্রশ্ন ছিল স্পষ্ট—এভাবে বিরোধী দলের এলাকায় নিজস্ব এমপি বসিয়ে বিএনপি কি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে?

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য জীবা আমিনা খান একটি সম্পূরক প্রশ্ন করেন। তিনি জানান, রোববার তিনি তার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর এলাকা সফর করেছেন।

জীবা আমিনা খান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট এলাকার ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগী হিসেবে নিয়োগের সরকারি উদ্যোগ নিয়েও জানতে চান।

আখতার হোসেনের কড়া বক্তব্য

এরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান আখতার হোসেন, যার নির্বাচনী এলাকায় পীরগাছা উপজেলা অন্তর্ভুক্ত। তিনি জানান, জীবা আমিনার সফরের পর স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন যে নির্বাচিত এমপিকে নয়, বরং সংরক্ষিত আসনের এমপিকেই সেখানকার প্রকৃত এমপি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আখতার আরও অভিযোগ করেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আগে বলেছিলেন কাউকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু মহিলা এমপি নিজেই সংসদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে প্রকৃত সত্য কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে আখতার উল্লেখ করেন, এই অতিরিক্ত দায়িত্ব শুধু বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আসনেই দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্যে, বিষয়টি এতদিন অনানুষ্ঠানিক থাকলেও এখন সংসদে আলোচনার মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। তাই সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।

সরকারের পক্ষে ব্যাখ্যা

আখতার হোসেনের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো আঞ্চলিক এলাকা বা সীমানা নির্ধারিত নেই। ফলে সম্পূর্ণ বাংলাদেশজুড়েই তারা সংসদীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

সালাহউদ্দিনের মতে, সংরক্ষিত আসনের সদস্যরাও অন্য এমপিদের মতোই পূর্ণাঙ্গ মর্যাদাসম্পন্ন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া বরাদ্দ তারা দেশের যেকোনো স্থানে বণ্টন করতে পারেন। তবে কোনো সংরক্ষিত আসনের সদস্য যদি নির্দিষ্ট একটি এলাকাকে নিজের এলাকা বলে দাবি করেন, তাহলে তিনি নিজেই নিজের কার্যপরিধি সীমিত করে ফেলেন বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধান সংশোধনে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন

বিএনপি কি একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সংসদে প্রশ্ন আখতার হোসেনের

আপডেট সময় : ১২:৩২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সংসদীয় আসনে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তার প্রশ্ন ছিল স্পষ্ট—এভাবে বিরোধী দলের এলাকায় নিজস্ব এমপি বসিয়ে বিএনপি কি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে?

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য জীবা আমিনা খান একটি সম্পূরক প্রশ্ন করেন। তিনি জানান, রোববার তিনি তার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর এলাকা সফর করেছেন।

জীবা আমিনা খান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট এলাকার ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগী হিসেবে নিয়োগের সরকারি উদ্যোগ নিয়েও জানতে চান।

আখতার হোসেনের কড়া বক্তব্য

এরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান আখতার হোসেন, যার নির্বাচনী এলাকায় পীরগাছা উপজেলা অন্তর্ভুক্ত। তিনি জানান, জীবা আমিনার সফরের পর স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন যে নির্বাচিত এমপিকে নয়, বরং সংরক্ষিত আসনের এমপিকেই সেখানকার প্রকৃত এমপি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আখতার আরও অভিযোগ করেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আগে বলেছিলেন কাউকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু মহিলা এমপি নিজেই সংসদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে প্রকৃত সত্য কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে আখতার উল্লেখ করেন, এই অতিরিক্ত দায়িত্ব শুধু বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আসনেই দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্যে, বিষয়টি এতদিন অনানুষ্ঠানিক থাকলেও এখন সংসদে আলোচনার মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। তাই সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।

সরকারের পক্ষে ব্যাখ্যা

আখতার হোসেনের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো আঞ্চলিক এলাকা বা সীমানা নির্ধারিত নেই। ফলে সম্পূর্ণ বাংলাদেশজুড়েই তারা সংসদীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

সালাহউদ্দিনের মতে, সংরক্ষিত আসনের সদস্যরাও অন্য এমপিদের মতোই পূর্ণাঙ্গ মর্যাদাসম্পন্ন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া বরাদ্দ তারা দেশের যেকোনো স্থানে বণ্টন করতে পারেন। তবে কোনো সংরক্ষিত আসনের সদস্য যদি নির্দিষ্ট একটি এলাকাকে নিজের এলাকা বলে দাবি করেন, তাহলে তিনি নিজেই নিজের কার্যপরিধি সীমিত করে ফেলেন বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।