ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণভোট বিধান না থাকলে ২০২৬-এ নির্বাচন অসম্ভব: শফিকুর

গণভোট বিধান না থাকলে ২০২৬-এ নির্বাচন অসম্ভব: শফিকুর

সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান না থাকার যুক্তিকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, সংবিধানে গণভোটের প্রভিশন না থাকলে ২০২৬ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। কারণ, পুরনো সংবিধান অনুসারে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৯ সালে। সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

জনগণের রায়ই সর্বোচ্চ আইন

সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জনগণের ইচ্ছাতেই বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। সেই একই আদেশের আলোকে নির্বাচন ও গণভোট, উভয়ই অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে একই প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনকে মেনে নেওয়া হলেও গণভোটকে অস্বীকার করার এই দ্বৈতনীতি তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।

পরিসংখ্যান দিয়ে যুক্তি

বিরোধীদলীয় নেতা পরিসংখ্যান তুলে ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখেন। সরকার গঠনের জন্য পাওয়া ৫১ শতাংশ ভোট যদি বৈধ বলে গণ্য হয়, তাহলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়ী হওয়া ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের বৃহত্তর রায়কে কেন অস্বীকার করা হবে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে বিরোধী দল অনেক আপত্তি সত্ত্বেও ৫১ শতাংশ ভোটের সরকারকে মেনে নিয়েছিল বলে তিনি জানান। ফলে তাঁর মতে, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর রায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

ওয়াদা ভঙ্গের অভিযোগ

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারি দল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তোলেন জামায়াত আমির। নির্বাচনের পর সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি পৃথক শপথ নেওয়ার কথা ছিল। বিরোধী দলের ৭৭ জন সংসদ সদস্য দুটি শপথই নিয়েছেন। অথচ সরকারি দল শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদের ভেতরে ও রাজপথে লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন শফিকুর রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৯৪ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের উদাহরণ টেনে আনেন। সে সময় সরকার দাবি না মানায় তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করেই বিদায় নিতে বাধ্য হয়। তাই বর্তমান সরকারকেও কালক্ষেপণ না করে দ্রুত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ১৮ কোটি মানুষের অধিকার উপেক্ষিত হলে তাঁরা চুপচাপ বসে থাকবেন না। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে তাঁরা অবশ্যই প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন এবং আজকের ওয়াকআউট তারই একটি অংশ বলে তিনি জানান।

এনসিপির প্রতিক্রিয়া

এ সময় উপস্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিরোধী দল শুরু থেকেই গণভোটের রায় মেনে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার সংস্কারের বদলে সংবিধান সংশোধনের জন্য নতুন একটি কমিটি ঘোষণা করেছে। এই কমিটির প্রতি বিরোধী দলের কোনো নৈতিক সমর্থন না থাকায় তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছে বলে তিনি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ দেখলে ‘ভালো অনুভূতি’ হয়: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী 

গণভোট বিধান না থাকলে ২০২৬-এ নির্বাচন অসম্ভব: শফিকুর

আপডেট সময় : ১২:২০:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান না থাকার যুক্তিকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, সংবিধানে গণভোটের প্রভিশন না থাকলে ২০২৬ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। কারণ, পুরনো সংবিধান অনুসারে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৯ সালে। সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

জনগণের রায়ই সর্বোচ্চ আইন

সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জনগণের ইচ্ছাতেই বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। সেই একই আদেশের আলোকে নির্বাচন ও গণভোট, উভয়ই অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে একই প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনকে মেনে নেওয়া হলেও গণভোটকে অস্বীকার করার এই দ্বৈতনীতি তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।

পরিসংখ্যান দিয়ে যুক্তি

বিরোধীদলীয় নেতা পরিসংখ্যান তুলে ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখেন। সরকার গঠনের জন্য পাওয়া ৫১ শতাংশ ভোট যদি বৈধ বলে গণ্য হয়, তাহলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়ী হওয়া ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের বৃহত্তর রায়কে কেন অস্বীকার করা হবে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে বিরোধী দল অনেক আপত্তি সত্ত্বেও ৫১ শতাংশ ভোটের সরকারকে মেনে নিয়েছিল বলে তিনি জানান। ফলে তাঁর মতে, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর রায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

ওয়াদা ভঙ্গের অভিযোগ

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারি দল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তোলেন জামায়াত আমির। নির্বাচনের পর সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি পৃথক শপথ নেওয়ার কথা ছিল। বিরোধী দলের ৭৭ জন সংসদ সদস্য দুটি শপথই নিয়েছেন। অথচ সরকারি দল শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদের ভেতরে ও রাজপথে লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন শফিকুর রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৯৪ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের উদাহরণ টেনে আনেন। সে সময় সরকার দাবি না মানায় তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করেই বিদায় নিতে বাধ্য হয়। তাই বর্তমান সরকারকেও কালক্ষেপণ না করে দ্রুত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ১৮ কোটি মানুষের অধিকার উপেক্ষিত হলে তাঁরা চুপচাপ বসে থাকবেন না। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে তাঁরা অবশ্যই প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন এবং আজকের ওয়াকআউট তারই একটি অংশ বলে তিনি জানান।

এনসিপির প্রতিক্রিয়া

এ সময় উপস্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিরোধী দল শুরু থেকেই গণভোটের রায় মেনে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার সংস্কারের বদলে সংবিধান সংশোধনের জন্য নতুন একটি কমিটি ঘোষণা করেছে। এই কমিটির প্রতি বিরোধী দলের কোনো নৈতিক সমর্থন না থাকায় তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছে বলে তিনি জানান।