ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনারগাঁওয়ে জাপান প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতি: গ্রেফতার ৪

সোনারগাঁওয়ে জাপান প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতি: গ্রেফতার ৪

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক জাপান প্রবাসীর পরিবারের গাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় চার সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেফতার করেছে সোনারগাঁও থানা পুলিশ। এই সোনারগাঁওয়ে ডাকাতি গ্রেফতার অভিযানে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারসহ একাধিক আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যেভাবে ঘটেছিল ডাকাতির ঘটনা

ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার মো. নুরুল হক (৭৯) সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানান, তার ছেলে পরিবারসহ জাপানে থাকেন। গত ৮ জুলাই তারা মাইক্রোবাসে বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

পথে সোনারগাঁও থানার আষারিয়ারচর এলাকায় মেঘনা টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে পৌঁছালে তিন থেকে চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি লেজার লাইট দেখিয়ে গাড়ি থামায়। এরপর তারা ছোরা ও চাপাতি দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখান। ফলে গাড়ির চাবি, একাধিক মোবাইল ফোন, নগদ ২০ হাজার টাকা ও পরিবারের ব্যাগসহ মালামাল ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

পুলিশের তদন্ত ও অভিযান

মামলা দায়েরের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্ত শুরু হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ ও সোনারগাঁও থানার ওসি গোলাম সারোয়ারের নেতৃত্বে তদন্ত এগিয়ে যায়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইকরাম উজ্জামান দল নিয়ে ঢাকা, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে অভিযান চালান। এক পর্যায়ে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার বারৈয়ারহাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে চার ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়

গ্রেফতারকৃতরা হলেন কবির হোসেন (৪০), জুয়েল (২৬), সজিব (২৯) ও শাকিল (২৬)। পুলিশ জানায়, কবির হোসেন এই চক্রের মূল হোতা। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে ১৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া জুয়েলের বিরুদ্ধেও একটি মামলা চলমান আছে।

উদ্ধার হলো লুণ্ঠিত মালামাল

গ্রেফতারকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে সোনারগাঁও থানার পিরোজপুর ইউনিয়নের মাগুড়া প্লট এলাকার একটি বাগান থেকে আলামত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৮ ভরি ৭ আনা ৫ রতি স্বর্ণালংকার। এর মধ্যে আছে গলার চেইন, চুড়ি, আংটি, কানের দুল, লকেট ও ব্রেসলেট। উপরন্তু একটি ট্রাভেল ট্রলি ব্যাগ, একটি হাতব্যাগ, একটি স্কুল ব্যাগ ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগও পাওয়া গেছে।

মাদকের টাকা জোগাড়েই ডাকাতি

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কবির দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার ডাকাত হিসেবে সক্রিয়। তিনি ও তার সহযোগীরা নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং ডাকাতি করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। মূলত মাদকের অর্থ জোগাড় এবং সংসার চালানোর উদ্দেশ্যেই তারা এই ডাকাতি ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

সোনারগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলছে। তাই এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফতুল্লায় র‍্যাব হামলা মামলার আসামি গিট্টু রিপন কক্সবাজারে গ্রেফতার

সোনারগাঁওয়ে জাপান প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতি: গ্রেফতার ৪

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক জাপান প্রবাসীর পরিবারের গাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় চার সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেফতার করেছে সোনারগাঁও থানা পুলিশ। এই সোনারগাঁওয়ে ডাকাতি গ্রেফতার অভিযানে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারসহ একাধিক আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যেভাবে ঘটেছিল ডাকাতির ঘটনা

ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার মো. নুরুল হক (৭৯) সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানান, তার ছেলে পরিবারসহ জাপানে থাকেন। গত ৮ জুলাই তারা মাইক্রোবাসে বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

পথে সোনারগাঁও থানার আষারিয়ারচর এলাকায় মেঘনা টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে পৌঁছালে তিন থেকে চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি লেজার লাইট দেখিয়ে গাড়ি থামায়। এরপর তারা ছোরা ও চাপাতি দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখান। ফলে গাড়ির চাবি, একাধিক মোবাইল ফোন, নগদ ২০ হাজার টাকা ও পরিবারের ব্যাগসহ মালামাল ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

পুলিশের তদন্ত ও অভিযান

মামলা দায়েরের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্ত শুরু হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ ও সোনারগাঁও থানার ওসি গোলাম সারোয়ারের নেতৃত্বে তদন্ত এগিয়ে যায়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইকরাম উজ্জামান দল নিয়ে ঢাকা, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে অভিযান চালান। এক পর্যায়ে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার বারৈয়ারহাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে চার ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়

গ্রেফতারকৃতরা হলেন কবির হোসেন (৪০), জুয়েল (২৬), সজিব (২৯) ও শাকিল (২৬)। পুলিশ জানায়, কবির হোসেন এই চক্রের মূল হোতা। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে ১৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া জুয়েলের বিরুদ্ধেও একটি মামলা চলমান আছে।

উদ্ধার হলো লুণ্ঠিত মালামাল

গ্রেফতারকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে সোনারগাঁও থানার পিরোজপুর ইউনিয়নের মাগুড়া প্লট এলাকার একটি বাগান থেকে আলামত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৮ ভরি ৭ আনা ৫ রতি স্বর্ণালংকার। এর মধ্যে আছে গলার চেইন, চুড়ি, আংটি, কানের দুল, লকেট ও ব্রেসলেট। উপরন্তু একটি ট্রাভেল ট্রলি ব্যাগ, একটি হাতব্যাগ, একটি স্কুল ব্যাগ ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগও পাওয়া গেছে।

মাদকের টাকা জোগাড়েই ডাকাতি

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কবির দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার ডাকাত হিসেবে সক্রিয়। তিনি ও তার সহযোগীরা নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং ডাকাতি করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। মূলত মাদকের অর্থ জোগাড় এবং সংসার চালানোর উদ্দেশ্যেই তারা এই ডাকাতি ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

সোনারগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলছে। তাই এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।