ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের মেয়েদের উচ্চশিক্ষা এখন থেকে হবে সম্পূর্ণ ফ্রি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভালো ফলাফলকারী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে স্কলারশিপের সুযোগও।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

মা বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার সময় মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার অনার্স পর্যন্ত এই সুবিধা সম্প্রসারিত করছে। পাশাপাশি প্রাইমারি পর্যায়ে যেভাবে স্টাইপেন্ড দেওয়া হচ্ছে, একইভাবে উচ্চশিক্ষায় ভালো ফলাফলকারী মেয়েদের জন্যও স্কলারশিপ চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা উন্নয়নে অবদান নিয়ে একটি ভিডিওচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্কুল ড্রেস ও মিডডে মিল

শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্যও একাধিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিশুকে পর্যায়ক্রমে নতুন স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। এছাড়া শিশুরা যেন আরও পুষ্টিকর খাবার পায়, সেজন্য মিডডে মিল কর্মসূচি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষকদের প্রতি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের মানুষ গড়ার কারিগর তারাই। তাই শিশুরা যেন প্রাণী বা পশু-পাখির প্রতি নির্দয় না হয়ে ওঠে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তার মতে, দেশ গড়তে মানবিক সৈনিক দরকার, আর শিক্ষকরাই সেই মানবিক সৈনিক তৈরি করবেন। শিশুরা মানবিক হয়ে বেড়ে উঠলে গড়ে উঠবে মানবিক বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সূচনা বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

সেরা শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের পদক প্রদান

দেশজুড়ে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী এবং বিশেষ অবদান রাখা শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানকে পদক দেওয়া হয় অনুষ্ঠানে। এছাড়া দুটি শিক্ষার্থী দলের মধ্যে ‘মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’ বিষয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মঞ্চস্থ হয় শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যা অতিথি সারিতে বসে উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রতি বছর গাছ লাগানোর আহ্বান

শিশুদের প্রতি প্রতি বছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতি বর্ষায় একটি করে গাছ লাগালে গাছটি যেমন বড় হবে, শিশুরাও তেমনি বড় হবে। গাছ হবে তাদের বন্ধু, যার নিচে বসে ক্লান্তি দূর হবে এবং শান্তি মিলবে।

সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচির উদ্বোধন

স্কুল পরিষ্কার রাখা এবং একে অপরকে সাহায্য করার আহ্বানও জানান তিনি। ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর স্থাপিত স্টল পরিদর্শনকালে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে একটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তিনি ‘গ্রিন স্কুল’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং পরে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের আইআরজিসি’র

মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় : ১১:০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

দেশের মেয়েদের উচ্চশিক্ষা এখন থেকে হবে সম্পূর্ণ ফ্রি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভালো ফলাফলকারী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে স্কলারশিপের সুযোগও।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

মা বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার সময় মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার অনার্স পর্যন্ত এই সুবিধা সম্প্রসারিত করছে। পাশাপাশি প্রাইমারি পর্যায়ে যেভাবে স্টাইপেন্ড দেওয়া হচ্ছে, একইভাবে উচ্চশিক্ষায় ভালো ফলাফলকারী মেয়েদের জন্যও স্কলারশিপ চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা উন্নয়নে অবদান নিয়ে একটি ভিডিওচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্কুল ড্রেস ও মিডডে মিল

শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্যও একাধিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিশুকে পর্যায়ক্রমে নতুন স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। এছাড়া শিশুরা যেন আরও পুষ্টিকর খাবার পায়, সেজন্য মিডডে মিল কর্মসূচি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষকদের প্রতি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের মানুষ গড়ার কারিগর তারাই। তাই শিশুরা যেন প্রাণী বা পশু-পাখির প্রতি নির্দয় না হয়ে ওঠে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তার মতে, দেশ গড়তে মানবিক সৈনিক দরকার, আর শিক্ষকরাই সেই মানবিক সৈনিক তৈরি করবেন। শিশুরা মানবিক হয়ে বেড়ে উঠলে গড়ে উঠবে মানবিক বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সূচনা বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

সেরা শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের পদক প্রদান

দেশজুড়ে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী এবং বিশেষ অবদান রাখা শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানকে পদক দেওয়া হয় অনুষ্ঠানে। এছাড়া দুটি শিক্ষার্থী দলের মধ্যে ‘মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’ বিষয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মঞ্চস্থ হয় শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যা অতিথি সারিতে বসে উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রতি বছর গাছ লাগানোর আহ্বান

শিশুদের প্রতি প্রতি বছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতি বর্ষায় একটি করে গাছ লাগালে গাছটি যেমন বড় হবে, শিশুরাও তেমনি বড় হবে। গাছ হবে তাদের বন্ধু, যার নিচে বসে ক্লান্তি দূর হবে এবং শান্তি মিলবে।

সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচির উদ্বোধন

স্কুল পরিষ্কার রাখা এবং একে অপরকে সাহায্য করার আহ্বানও জানান তিনি। ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর স্থাপিত স্টল পরিদর্শনকালে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে একটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তিনি ‘গ্রিন স্কুল’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং পরে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।