ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনার দুর্গ ভাঙতে টুখেলের চার মাস্টারপ্ল্যান

আর্জেন্টিনার দুর্গ ভাঙতে টুখেলের চার মাস্টারপ্ল্যান

নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পৌঁছেছে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। তবে এবার তাদের অপেক্ষায় আরও কঠিন প্রতিপক্ষ। ফাইনালের পথে ইংল্যান্ডের সামনে এখন লিওনেল মেসি ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা এই টুর্নামেন্টে যেন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি। প্রথাগত উইঙ্গার ছাড়াই মাঝমাঠে প্রতিভাবান খেলোয়াড় সাজিয়ে তারা খেলছে নিখুঁত পাসিং ও প্রেসিং ফুটবল। ফলে অন্য দলগুলোর চেয়ে তাদের খেলার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে আজকের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার এই অজেয় মায়াজাল ভাঙতে টুখেল কী কৌশল নিতে পারেন? চলুন দেখে নেওয়া যাক সম্ভাব্য চারটি রণকৌশল।

রক্ষণ নয়, আক্রমণই মূল হাতিয়ার

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রক্ষণাত্মক কৌশলে জেতা প্রায় অসম্ভব। কেপ ভার্দে বা মিসরের মতো দলগুলো রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়েই ধরাশায়ী হয়েছে।

লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর মতো ডিফেন্ডাররা নিচ থেকে আক্রমণ সাজাতে দারুণ দক্ষ। তাই ইংল্যান্ডকে শুরু থেকেই হাই-প্রেসিং খেলতে হবে। হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের মতো ফরোয়ার্ডদের দিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চাপে রাখা জরুরি, যাতে তারা মাঝমাঠের সঙ্গে সংযোগ গড়তে না পারে।

মাঝমাঠ এড়িয়ে উইং-নির্ভর আক্রমণ

স্কালোনির দল মাঠের মাঝখানের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখে। প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডারদের কাছে টেনে এনে তারা ফাঁকা জায়গা তৈরি করে, এরপর নিখুঁত পাসে বেরিয়ে যায়।

তাই মাঝমাঠ দিয়ে আক্রমণের বদলে ইংল্যান্ডের উচিত মাঠের দুই প্রান্ত ব্যবহার করা। আর্জেন্টিনা ম্যান-মার্কিংয়ের চেয়ে জোনাল-মার্কিং বেশি পছন্দ করে। ফলে কোনাকুনি ক্রস ও লেট-রান সামলাতে তারা সমস্যায় পড়ে।

বুকায়ো সাকা ও অ্যান্থনি গর্ডনের মতো গতিময় উইঙ্গারদের কাজে লাগিয়ে বল প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে পারলে কেইন-বেলিংহামের গোলের সুযোগ বাড়বে।

৯০ মিনিটেই ম্যাচ শেষ করার লক্ষ্য

পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনার খেলার ধরন এনার্জি খরচ কম করে। ছোট ছোট পাসের কারণে তারা ম্যাচের ১১৮ মিনিটেও সমান বিপজ্জনক থাকে। এই টুর্নামেন্টে তাদের ১৭ গোলের মধ্যে ৮টিই এসেছে ৮০ মিনিটের পর।

ম্যাচ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই সুবিধা পাবে ক্লান্তিহীন আর্জেন্টিনা। এছাড়া টাইব্রেকারে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের রেকর্ড অসাধারণ। তাই অতিরিক্ত সময় বা পেনাল্টির ঝুঁকি এড়িয়ে নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ শেষ করার মানসিকতা নিয়ে নামতে হবে ইংল্যান্ডকে।

মেসি-ফ্যাক্টর সামলাতে শারীরিক শক্তি

৩৯ বছর বয়সেও মেসি একক দক্ষতায় ম্যাচ ঘুরিয়ে দিচ্ছেন এই টুর্নামেন্টে। মেসিকে আটকাতে বাড়তি খেলোয়াড় পাঠালে মাঠের অন্য প্রান্তে ফাঁকা জায়গা তৈরি হবে, যা তিনি এক পাসেই খুঁজে নেবেন।

তাই মেসিকে সম্পূর্ণ আটকানোর অবাস্তব চেষ্টা না করে, আক্রমণ হজম করার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের চিরচেনা শারীরিক ফুটবল খেলতে হবে ইংল্যান্ডকে। মাঝমাঠের প্রতিটি ফিফটি-ফিফটি বল দখলে আগ্রাসী হতে হবে তাদের।

টুখেলের কৌশলী মস্তিষ্ক বনাম স্কালোনির অপরাজিত সিস্টেম বিশ্বকাপের এই মহারণে শেষ হাসি কার, তা দেখতে মুখিয়ে আছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনার দুর্গ ভাঙতে টুখেলের চার মাস্টারপ্ল্যান

আর্জেন্টিনার দুর্গ ভাঙতে টুখেলের চার মাস্টারপ্ল্যান

আপডেট সময় : ০৩:০৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পৌঁছেছে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। তবে এবার তাদের অপেক্ষায় আরও কঠিন প্রতিপক্ষ। ফাইনালের পথে ইংল্যান্ডের সামনে এখন লিওনেল মেসি ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা এই টুর্নামেন্টে যেন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি। প্রথাগত উইঙ্গার ছাড়াই মাঝমাঠে প্রতিভাবান খেলোয়াড় সাজিয়ে তারা খেলছে নিখুঁত পাসিং ও প্রেসিং ফুটবল। ফলে অন্য দলগুলোর চেয়ে তাদের খেলার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে আজকের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার এই অজেয় মায়াজাল ভাঙতে টুখেল কী কৌশল নিতে পারেন? চলুন দেখে নেওয়া যাক সম্ভাব্য চারটি রণকৌশল।

রক্ষণ নয়, আক্রমণই মূল হাতিয়ার

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রক্ষণাত্মক কৌশলে জেতা প্রায় অসম্ভব। কেপ ভার্দে বা মিসরের মতো দলগুলো রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়েই ধরাশায়ী হয়েছে।

লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর মতো ডিফেন্ডাররা নিচ থেকে আক্রমণ সাজাতে দারুণ দক্ষ। তাই ইংল্যান্ডকে শুরু থেকেই হাই-প্রেসিং খেলতে হবে। হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের মতো ফরোয়ার্ডদের দিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চাপে রাখা জরুরি, যাতে তারা মাঝমাঠের সঙ্গে সংযোগ গড়তে না পারে।

মাঝমাঠ এড়িয়ে উইং-নির্ভর আক্রমণ

স্কালোনির দল মাঠের মাঝখানের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখে। প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডারদের কাছে টেনে এনে তারা ফাঁকা জায়গা তৈরি করে, এরপর নিখুঁত পাসে বেরিয়ে যায়।

তাই মাঝমাঠ দিয়ে আক্রমণের বদলে ইংল্যান্ডের উচিত মাঠের দুই প্রান্ত ব্যবহার করা। আর্জেন্টিনা ম্যান-মার্কিংয়ের চেয়ে জোনাল-মার্কিং বেশি পছন্দ করে। ফলে কোনাকুনি ক্রস ও লেট-রান সামলাতে তারা সমস্যায় পড়ে।

বুকায়ো সাকা ও অ্যান্থনি গর্ডনের মতো গতিময় উইঙ্গারদের কাজে লাগিয়ে বল প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে পারলে কেইন-বেলিংহামের গোলের সুযোগ বাড়বে।

৯০ মিনিটেই ম্যাচ শেষ করার লক্ষ্য

পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনার খেলার ধরন এনার্জি খরচ কম করে। ছোট ছোট পাসের কারণে তারা ম্যাচের ১১৮ মিনিটেও সমান বিপজ্জনক থাকে। এই টুর্নামেন্টে তাদের ১৭ গোলের মধ্যে ৮টিই এসেছে ৮০ মিনিটের পর।

ম্যাচ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই সুবিধা পাবে ক্লান্তিহীন আর্জেন্টিনা। এছাড়া টাইব্রেকারে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের রেকর্ড অসাধারণ। তাই অতিরিক্ত সময় বা পেনাল্টির ঝুঁকি এড়িয়ে নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ শেষ করার মানসিকতা নিয়ে নামতে হবে ইংল্যান্ডকে।

মেসি-ফ্যাক্টর সামলাতে শারীরিক শক্তি

৩৯ বছর বয়সেও মেসি একক দক্ষতায় ম্যাচ ঘুরিয়ে দিচ্ছেন এই টুর্নামেন্টে। মেসিকে আটকাতে বাড়তি খেলোয়াড় পাঠালে মাঠের অন্য প্রান্তে ফাঁকা জায়গা তৈরি হবে, যা তিনি এক পাসেই খুঁজে নেবেন।

তাই মেসিকে সম্পূর্ণ আটকানোর অবাস্তব চেষ্টা না করে, আক্রমণ হজম করার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের চিরচেনা শারীরিক ফুটবল খেলতে হবে ইংল্যান্ডকে। মাঝমাঠের প্রতিটি ফিফটি-ফিফটি বল দখলে আগ্রাসী হতে হবে তাদের।

টুখেলের কৌশলী মস্তিষ্ক বনাম স্কালোনির অপরাজিত সিস্টেম বিশ্বকাপের এই মহারণে শেষ হাসি কার, তা দেখতে মুখিয়ে আছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।