ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধের পর প্রথমবার বৈঠকে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু

ইরান যুদ্ধের পর প্রথমবার বৈঠকে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু

ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথমবার সরাসরি বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হোয়াইট হাউসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বৈঠকে মূলত ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হবে। তবে পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অবস্থা, লেবাননের সঙ্গে চুক্তি এবং আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণও আলোচনায় আসবে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই নেতাই এখন নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে চাপে আছেন নেতানিয়াহু। এছাড়া ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েনও আলোচনায় উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন আসন্ন। তাই দীর্ঘায়িত যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বৈঠকে লেবানন সংক্রান্ত চুক্তি নিয়েও কথা হবে। ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সই করেছিল। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হবে।

বৈঠকের আগের দিন সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ইরান প্রশ্নে তার ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছু মতভেদ আছে। তবে উভয়ের অবস্থান মোটের ওপর কাছাকাছি বলেও জানান তিনি।

অতীতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে বহুবার উত্থান-পতন দেখা গেছে। তবে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর দুজনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। ফলে ফেব্রুয়ারিতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে।

সে সময় দুই পক্ষই দাবি করেছিল, ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। পাশাপাশি পশ্চিমাপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করাও উদ্দেশ্য ছিল বলে জানানো হয়।

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এসব হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন শহর লক্ষ্যবস্তু হয়।

এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়। উপরন্তু, যুদ্ধ দ্রুত থামাতে ট্রাম্পের ওপর দেশীয় মহল ও আঞ্চলিক মিত্রদের চাপও বেড়ে যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বোমা নয়, ইরানকে কাবু করবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা’

ইরান যুদ্ধের পর প্রথমবার বৈঠকে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু

আপডেট সময় : ০১:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর এই প্রথমবার সরাসরি বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হোয়াইট হাউসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বৈঠকে মূলত ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হবে। তবে পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অবস্থা, লেবাননের সঙ্গে চুক্তি এবং আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণও আলোচনায় আসবে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই নেতাই এখন নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে চাপে আছেন নেতানিয়াহু। এছাড়া ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েনও আলোচনায় উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন আসন্ন। তাই দীর্ঘায়িত যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বৈঠকে লেবানন সংক্রান্ত চুক্তি নিয়েও কথা হবে। ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি কাঠামোগত চুক্তিতে সই করেছিল। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হবে।

বৈঠকের আগের দিন সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ইরান প্রশ্নে তার ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছু মতভেদ আছে। তবে উভয়ের অবস্থান মোটের ওপর কাছাকাছি বলেও জানান তিনি।

অতীতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে বহুবার উত্থান-পতন দেখা গেছে। তবে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর দুজনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। ফলে ফেব্রুয়ারিতে তারা ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে।

সে সময় দুই পক্ষই দাবি করেছিল, ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। পাশাপাশি পশ্চিমাপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করাও উদ্দেশ্য ছিল বলে জানানো হয়।

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এসব হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন শহর লক্ষ্যবস্তু হয়।

এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়। উপরন্তু, যুদ্ধ দ্রুত থামাতে ট্রাম্পের ওপর দেশীয় মহল ও আঞ্চলিক মিত্রদের চাপও বেড়ে যায়।