হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে ইরান ও ওমান। দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর এই জলপথে একটি ‘অস্থায়ী নৌ করিডোর’ চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছে দেশ দুটি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিবাচকভাবে কমতে শুরু করেছে।
ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যৌথ সিদ্ধান্ত
তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ বদর আল-বুসাইদি এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তারা হরমুজ প্রণালিকে মাইনমুক্ত করার বিষয়ে একমত প্রকাশ করেন। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে শিগগিরই এই নিরাপদ করিডোর চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
তেল সরবরাহে স্থবিরতা এবং আন্তর্জাতিক চাপ
বিগত ছয় মাসের সংঘাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও এলএনজির এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়েই পরিবহন করা হতো। কিন্তু সম্প্রতি পরিস্থিতি জটিল করতে ইরান ৪৫টি জাহাজ কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। অপরদিকে যুক্তরাস্ট্রও ইরানের সাথে বাণিজ্যরত দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার বার্তা দিয়ে আসছিল।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম হ্রাসের প্রভাব
শান্তি আলোচনার এই খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় প্রভাব পড়েছে। পর পর তিন দিন তেলের দাম কমেছে। ফলে প্রতি ব্যারেলে দাম ২ ডলারের বেশি কমে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্থানে নেমে এসেছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
সংঘাতের ঝুঁকি কমে আসায় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের দূতাবাসগুলোতে কর্মী ফেরানো শুরু করেছে। এছাড়াও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মিত্রদের জানিয়েছেন, ইরানের ওপর আপাতত নতুন হামলার পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে দীর্ঘ এই সংঘাতের ফলে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।





















