ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুন্নু অ্যাগ্রোর আর্থিক বিবরণীতে অসংগতি, তদন্ত করবে ডিএসই

মুন্নু অ্যাগ্রোর আর্থিক বিবরণীতে অসংগতি, তদন্ত করবে ডিএসই

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান মুন্নু অ্যাগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে ক্রয়সংক্রান্ত নথির ঘাটতি এবং বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে মুন্নু অ্যাগ্রোর আর্থিক বিবরণীতে অসংগতি খতিয়ে দেখতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

সম্প্রতি বিএসইসির করপোরেট রিপোর্টিং বিভাগ থেকে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ক্রয়সংক্রান্ত নথিপত্রে বড় ধরনের ঘাটতি

২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নিরীক্ষক বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। কোম্পানির বিভিন্ন কেনাকাটার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো নথিপত্র পাওয়া যায়নি।

নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্রয়ের চাহিদাপত্র, কার্যাদেশ, দরপত্র, পণ্য সরবরাহের চালান ও অর্থ প্রাপ্তির রসিদ অনুপস্থিত রয়েছে। ফলে আর্থিক বিবরণীতে দেখানো ব্যয়ের সঠিকতা ও যৌক্তিকতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সাধারণত যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ক্রয়প্রক্রিয়ায় এসব নথি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে পণ্যের দাম, সরবরাহ ও অর্থ পরিশোধের ধারাবাহিকতা বোঝা যায়। তবে নথিপত্র না থাকায় লেনদেনের প্রকৃত সত্যতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

বিশাল অঙ্কের নগদ লেনদেন ও বিএসইসির অসন্তোষ

কোম্পানিটির অধিকাংশ লেনদেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে নগদে সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে বড় অঙ্কের এই নগদ লেনদেনের কারণ ও উৎস খতিয়ে দেখবে ডিএসই।

প্রদেয় ব্যাখ্যার বিষয়ে বিএসইসি জানায়, মুন্নু অ্যাগ্রোর দেওয়া জবাব সন্তোষজনক নয়। কারণ তাদের উত্তর নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তাই কেবল হিসাবের অঙ্ক নয়, বরং লেনদেনের পেছনের আসল ঘটনা তদন্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

তদন্তে যেসব বিষয় খতিয়ে দেখবে ডিএসই

  • সংশ্লিষ্ট সব লেনদেনের সত্যতা এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা।

  • কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার আসল কার্যকারিতা।

  • নগদ অর্থের প্রবাহ ও লেনদেনের ধারাবাহিকতা।

  • বাজারমূল্যের বাইরে অন্যায্য শর্তে কোনো লেনদেন হয়েছে কি না।

  • প্রতিবেদনে কোনো ভুল তথ্য বা অনিয়ম রয়েছে কি না।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর বিশেষ কমিটি এ বিষয়ে বিএসইসিকে একটি পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট দেয়। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এবার আনুষ্ঠানিক তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

টাঙ্গুয়ার হাওরে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু, লাশ উদ্ধার

মুন্নু অ্যাগ্রোর আর্থিক বিবরণীতে অসংগতি, তদন্ত করবে ডিএসই

আপডেট সময় : ০৫:৩০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান মুন্নু অ্যাগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে ক্রয়সংক্রান্ত নথির ঘাটতি এবং বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে মুন্নু অ্যাগ্রোর আর্থিক বিবরণীতে অসংগতি খতিয়ে দেখতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

সম্প্রতি বিএসইসির করপোরেট রিপোর্টিং বিভাগ থেকে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ক্রয়সংক্রান্ত নথিপত্রে বড় ধরনের ঘাটতি

২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নিরীক্ষক বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। কোম্পানির বিভিন্ন কেনাকাটার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো নথিপত্র পাওয়া যায়নি।

নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্রয়ের চাহিদাপত্র, কার্যাদেশ, দরপত্র, পণ্য সরবরাহের চালান ও অর্থ প্রাপ্তির রসিদ অনুপস্থিত রয়েছে। ফলে আর্থিক বিবরণীতে দেখানো ব্যয়ের সঠিকতা ও যৌক্তিকতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সাধারণত যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ক্রয়প্রক্রিয়ায় এসব নথি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে পণ্যের দাম, সরবরাহ ও অর্থ পরিশোধের ধারাবাহিকতা বোঝা যায়। তবে নথিপত্র না থাকায় লেনদেনের প্রকৃত সত্যতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

বিশাল অঙ্কের নগদ লেনদেন ও বিএসইসির অসন্তোষ

কোম্পানিটির অধিকাংশ লেনদেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে নগদে সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে বড় অঙ্কের এই নগদ লেনদেনের কারণ ও উৎস খতিয়ে দেখবে ডিএসই।

প্রদেয় ব্যাখ্যার বিষয়ে বিএসইসি জানায়, মুন্নু অ্যাগ্রোর দেওয়া জবাব সন্তোষজনক নয়। কারণ তাদের উত্তর নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তাই কেবল হিসাবের অঙ্ক নয়, বরং লেনদেনের পেছনের আসল ঘটনা তদন্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

তদন্তে যেসব বিষয় খতিয়ে দেখবে ডিএসই

  • সংশ্লিষ্ট সব লেনদেনের সত্যতা এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা।

  • কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার আসল কার্যকারিতা।

  • নগদ অর্থের প্রবাহ ও লেনদেনের ধারাবাহিকতা।

  • বাজারমূল্যের বাইরে অন্যায্য শর্তে কোনো লেনদেন হয়েছে কি না।

  • প্রতিবেদনে কোনো ভুল তথ্য বা অনিয়ম রয়েছে কি না।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর বিশেষ কমিটি এ বিষয়ে বিএসইসিকে একটি পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট দেয়। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এবার আনুষ্ঠানিক তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।