নওগাঁর বদলগাছীতে ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করার একটি ঘটনা সামনে এসেছে। উপজেলা মডেল মসজিদের এক মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। তিনি ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার টাকা তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ব্যাংক কর্মকর্তার সতর্কতায় শেষ মুহূর্তে জালিয়াতি ধরা পড়ে যায়।
গত ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে বদলগাছী সোনালী ব্যাংক শাখায় ঘটনাটি ঘটে। যদিও বিষয়টি জানাজানি হয় দুই আগস্ট রবিবার। এরপর থেকেই গোটা উপজেলায় আলোচনার ঝড় ওঠে।
ব্যাংক ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, মুয়াজ্জিন মো. মাহফুজ একটি চেক নিয়ে ব্যাংকে যান। চেকটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি এবং মডেল মসজিদের সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষর ছিল।
তবে জাহাঙ্গীর আলম কয়েক মাস আগেই বদলগাছী থেকে বদলি হয়ে গেছেন। ফলে তাঁর স্বাক্ষর দেখে ব্যাংক ব্যবস্থাপক নূর আলমের সন্দেহ জাগে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে মাহফুজ দাবি করেন, বদলির আগেই জাহাঙ্গীর আলম চেকে স্বাক্ষর করে গিয়েছিলেন।
সন্দেহ আরও বাড়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সরাসরি ইউএনও ইসরাত জাহান ছনির সঙ্গে যোগাযোগ করে। যাচাইয়ের পর প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ইউএনওর স্বাক্ষরটি জাল করা হয়েছিল। এরপরই চেকের বিপরীতে টাকা পরিশোধ স্থগিত করে দেওয়া হয়।
রবিবার দুপুরে সরেজমিনে মডেল মসজিদে গিয়ে মুয়াজ্জিন মাহফুজকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
মডেল মসজিদের বর্তমান ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আল আমিন সরকার জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন এবং ঘটনাটি শুনেছেন। উপজেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি জানান।
সোনালী ব্যাংকের বদলগাছী শাখা ব্যবস্থাপক নূর আলম প্রথম আলোকে বলেন, চেকটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যাচাইয়ের পর অর্থ পরিশোধ বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি বলেন, প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়েছে। তদন্ত শেষে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা বা জিডি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। উপজেলা প্রশাসন বলছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।















