ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব ও কৌশলগত শক্তি

আন্তর্জাতিক বাজারে জলপথ দিয়ে তেল পরিবহণ পুনরায় শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব কিছুটা কমেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে তেহরান এখনো তাদের মূল কৌশলগত সুবিধা পুরোপুরি হারায়নি বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক নেগার মোর্তাজাভি।

‘দি ইরান পডকাস্ট’-এর সঞ্চালক ও জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক নেগার মোর্তাজাভি আল জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ বেড়ে যাওয়া এটিই নির্দেশ করে যে ইরানের দরকষাকষির শক্তি ক্ষয় হচ্ছে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে তেহরান ‘হরমুজ কার্ড’ ব্যবহার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।

নেগার মোর্তাজাভি উল্লেখ করেন, জলপথটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে বিশ্ববাজারের জন্য তেল পরিবহণ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখা ও সামরিক পাহারায় জ্বালানি পরিবহণ করা এক বিষয় নয়। বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনো হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে ও পরিবহণ বিমা খরচ চড়া রয়ে গেছে।

মোর্তাজাভি আরও যোগ করেন, ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক খরচ তৈরি করা, বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রাখা ও যেকোনো সময় সামুদ্রিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর পূর্ণ সক্ষমতা রাখে। ফলে ইরানের এই কৌশলগত প্রভাব মুছে যায়নি, কেবল এর ধরণ কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে।

নেগার মোর্তাজাভির মতে, তেহরানের দেওয়া শর্ত না মেনেও যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো জনসমক্ষে এমন যুক্তি প্রদর্শন করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত ও স্থায়ী সামরিক সহায়তা বাড়ানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যের সম্পূর্ণ সুরক্ষার নিশ্চায়ক ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্র কতটুকু ধরে রাখতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব ও কৌশলগত শক্তি

আপডেট সময় : ০২:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে জলপথ দিয়ে তেল পরিবহণ পুনরায় শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব কিছুটা কমেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে তেহরান এখনো তাদের মূল কৌশলগত সুবিধা পুরোপুরি হারায়নি বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক নেগার মোর্তাজাভি।

‘দি ইরান পডকাস্ট’-এর সঞ্চালক ও জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক নেগার মোর্তাজাভি আল জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ বেড়ে যাওয়া এটিই নির্দেশ করে যে ইরানের দরকষাকষির শক্তি ক্ষয় হচ্ছে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে তেহরান ‘হরমুজ কার্ড’ ব্যবহার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।

নেগার মোর্তাজাভি উল্লেখ করেন, জলপথটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে বিশ্ববাজারের জন্য তেল পরিবহণ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখা ও সামরিক পাহারায় জ্বালানি পরিবহণ করা এক বিষয় নয়। বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনো হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে ও পরিবহণ বিমা খরচ চড়া রয়ে গেছে।

মোর্তাজাভি আরও যোগ করেন, ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক খরচ তৈরি করা, বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রাখা ও যেকোনো সময় সামুদ্রিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর পূর্ণ সক্ষমতা রাখে। ফলে ইরানের এই কৌশলগত প্রভাব মুছে যায়নি, কেবল এর ধরণ কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে।

নেগার মোর্তাজাভির মতে, তেহরানের দেওয়া শর্ত না মেনেও যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো জনসমক্ষে এমন যুক্তি প্রদর্শন করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত ও স্থায়ী সামরিক সহায়তা বাড়ানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যের সম্পূর্ণ সুরক্ষার নিশ্চায়ক ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্র কতটুকু ধরে রাখতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত।