ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা: রাজনৈতিক চাপে নেতানিয়াহু ও মিরি রেগেভ

ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলার ঘটনায় চরম রাজনৈতিক চাপে নেতানিয়াহু ও রেগেভ

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর ইসরাইলের সার্বিক বিমান নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির বিরোধী রাজনীতিকরা। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা এবং নিরাপত্তাজনিত গাফিলতির দায়ে সরাসরি রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী পরিবহণমন্ত্রী মিরি রেগেভ।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটিতে ওমানের একজন সহ-পাইলট মূল পাইলটকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন। কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন একটি দেশের নাগরিক কীভাবে তেল আবিবগামী স্পর্শকাতর বাণিজ্যিক বিমানের পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পেলেন, তা নিয়ে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সিভিল এভিয়েশন ও বিদেশি এয়ারলাইনসের পাইলটদের নিরাপত্তা তদারকিতে সরকারের চরম ব্যর্থতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা অনতিবিলম্বে পরিবহণমন্ত্রী মিরি রেগেভের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

‘দ্য টাইমস অব ইসরাইল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি ফ্লাইটের নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্ব কার—এ নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’ এবং পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাফোড়ন চলছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নেতানিয়াহু সরকার শিন বেতের ওপর থেকে দায়িত্ব কমিয়ে তা পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির ওপর ন্যস্ত করেন। অথচ পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে।

তবে ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা পরবর্তী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মন্ত্রী মিরি রেগেভ। তিনি দাবি করেন, বিদেশি ক্রু ও পাইলটদের গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করার কারিগরি সক্ষমতা পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নেই এবং এই ব্যর্থতার দায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর। অন্যদিকে, ইসরাইলি নীতিমালা অনুযায়ী যে দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সে দেশের পাইলটের বিমানে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শিন বেতের নজরদারিতে গাফিলতি ছিল বলে দাবি করছে চ্যানেল ১২। আগামী ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে এই ঘটনা নেতানিয়াহু সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ফ্রান্সে ৫০০ স্কুল বন্ধ, গ্রেপ্তার ৫ হাজার

ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা: রাজনৈতিক চাপে নেতানিয়াহু ও মিরি রেগেভ

আপডেট সময় : ০২:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলার ঘটনায় চরম রাজনৈতিক চাপে নেতানিয়াহু ও রেগেভ

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর ইসরাইলের সার্বিক বিমান নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির বিরোধী রাজনীতিকরা। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা এবং নিরাপত্তাজনিত গাফিলতির দায়ে সরাসরি রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী পরিবহণমন্ত্রী মিরি রেগেভ।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটিতে ওমানের একজন সহ-পাইলট মূল পাইলটকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন। কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন একটি দেশের নাগরিক কীভাবে তেল আবিবগামী স্পর্শকাতর বাণিজ্যিক বিমানের পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পেলেন, তা নিয়ে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সিভিল এভিয়েশন ও বিদেশি এয়ারলাইনসের পাইলটদের নিরাপত্তা তদারকিতে সরকারের চরম ব্যর্থতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা অনতিবিলম্বে পরিবহণমন্ত্রী মিরি রেগেভের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

‘দ্য টাইমস অব ইসরাইল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি ফ্লাইটের নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্ব কার—এ নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’ এবং পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাফোড়ন চলছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নেতানিয়াহু সরকার শিন বেতের ওপর থেকে দায়িত্ব কমিয়ে তা পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির ওপর ন্যস্ত করেন। অথচ পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে।

তবে ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা পরবর্তী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মন্ত্রী মিরি রেগেভ। তিনি দাবি করেন, বিদেশি ক্রু ও পাইলটদের গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করার কারিগরি সক্ষমতা পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নেই এবং এই ব্যর্থতার দায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর। অন্যদিকে, ইসরাইলি নীতিমালা অনুযায়ী যে দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সে দেশের পাইলটের বিমানে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শিন বেতের নজরদারিতে গাফিলতি ছিল বলে দাবি করছে চ্যানেল ১২। আগামী ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে এই ঘটনা নেতানিয়াহু সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করেছে।