একাকী যুদ্ধবিমান চালিয়ে নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন থাইল্যান্ডের রানি সুথিদা। বিশ্বের প্রথম ক্ষমতাসীন কোনো নারী রানি হিসেবে তিনি একা যুদ্ধবিমান চালনার এই নজির স্থাপন করলেন।
৪৮ বছর বয়সী এই রানি দেশটির ফুন ফিন জেলার একটি বিমানঘাঁটি থেকে গ্রিপেন যুদ্ধবিমান নিয়ে আকাশে উড্ডয়ন করেন। সফল অবতরণের পর রানওয়েতে তাকে স্বাগত জানান তার স্বামী ৭৪ বছর বয়সী থাই রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, রাজা তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান এবং রানির পোশাকে ‘গ্রিপেন অর্ডার গোল্ডেন প্যাচ’ ব্যাজ পরিয়ে দেন। এরপর থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী সম্মান প্রদর্শনের রীতি অনুযায়ী সুথিদা রাজার পায়ের কাছে মাটিতে বসেন।
সাবেক বিমানবালা সুথিদা ২০১০ সালে বৈমানিক হিসেবে সনদ পান। এরপর বিভিন্ন ধরনের বিমানে তিনি ১ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় উড্ডয়ন করেছেন। ২০১৯ সালে রাজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে তিনি রাজার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুথিদা এর আগে রাজকীয় ফ্লাইটে রাজার সহকারী চালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রীড়ানৈপুণ্য ও বিমান চালনার দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে থাই সরকার তাকে ‘পাইলট রানি’ আখ্যা দিয়েছে।
রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন ২০১৬ সালে থাইল্যান্ডের সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি মোট চারবার বিয়ে করেছেন, যার মধ্যে ১৯৭৭ সালে রাজকুমারী সোয়ামসাওয়ালি কিতিয়াকারা এবং পরবর্তীতে অভিনেত্রী যুবধিদা পোলপ্রাসের্থ অন্যতম।
থাইল্যান্ডে রাজপরিবারের অবমাননা রোধে অত্যন্ত কঠোর আইন রয়েছে। এই আইনের আওতায় রাজতন্ত্র বা রাজপরিবারকে অবমাননা করলে অপরাধীর সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।



























