ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত থেকে আসছে ২০০ রেল কোচ, প্রথম চালানে ১৮টি

ভারত থেকে আসছে ২০০ রেল কোচ, প্রথম চালানে ১৮টি

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য প্রথম দফায় ১৮টি আধুনিক ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ পাঠিয়েছে ভারত। নতুন এসব কোচে যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তার পাশাপাশি শিশুযত্নের আলাদা কক্ষ, প্রার্থনাকক্ষ এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহের চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম চালানে ১৮টি কোচ পাঠানো হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর এসব কোচের চালান পাঠানো হয়।

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায় কোচগুলো তৈরি করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মোট সাত ধরনের যাত্রীবাহী কোচ নির্মাণ ও সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রথম চালানে পাঠানো ১৮টি কোচের মধ্যে রয়েছে ১১টি শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন শোভন চেয়ার কার, তিনটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত চেয়ার কার, দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্লিপার কোচ এবং দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পাওয়ার কার। পাওয়ার কারগুলোতে ট্রেনের গার্ডের জন্য পৃথক কক্ষের পাশাপাশি মালপত্র রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।

ভারতের রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে দেশটির রেল কোচ কারখানার সহযোগিতা শুরু হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। সে সময় বাংলাদেশকে ১২০টি এলএইচবি ধরনের ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করা হয়েছিল।ওই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে রাইটস লিমিটেডের মাধ্যমে আরও ২০০টি ব্রডগেজ কোচ তৈরির কার্যাদেশ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন চুক্তির আওতায় সাত ধরনের কোচ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশের রেলপথের অবকাঠামো, পরিচালনাগত চাহিদা এবং যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনায় নতুন কোচগুলোর নকশায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আধুনিক আসন ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন কোচগুলোতে বিশেষভাবে তৈরি হেলান দেওয়া যায় এমন আসন যুক্ত করা হয়েছে। এসব আসনে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পা রাখার জায়গা রয়েছে। যাত্রীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কোণে আসন হেলিয়ে বসতে পারবেন।

এ ছাড়া শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোচেও পাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় থাকছে সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, জরুরি সংকেত দেওয়ার সুবিধা এবং আংশিক খোলা যায় এমন জানালা।

বিশেষ সুবিধা হিসেবে কোচগুলোতে শিশুদের যত্ন নেওয়ার জন্য পৃথক কক্ষ এবং যাত্রীদের প্রার্থনার জন্য আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে। ভারতের রেল মন্ত্রণালয়ের দাবি, এলএইচবি ধরনের কোচে প্রথমবারের মতো কয়েকটি নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের রেলপথে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের বিষয়টিও কোচ তৈরির সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভিড়ের সময় যাত্রীরা ছাদে উঠে পড়লে অতিরিক্ত ওজন বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে কোচগুলোর ছাদ আরও মজবুত করা হয়েছে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন কোচে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় যাত্রীদের সুরক্ষা বাড়াতে ইউরোপীয় মানদণ্ড ইএন ১৫২২৭ অনুসরণ করে কোচগুলোর কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য কোচের বাইরের মূল কাঠামোর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার সময় ধাক্কা সহ্য করার সক্ষমতা বাড়ে এবং যাত্রীদের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন এনেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। ভারতের প্রচলিত রেল কোচে ৭৫০ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশের জন্য তৈরি নতুন কোচগুলো ৪১৫ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পরিচালনার উপযোগী করা হয়েছে।

এদিকে রাইটস লিমিটেড জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত ২৮০টির বেশি রেল ইঞ্জিন এবং ১ হাজার ৮৫টির বেশি যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি ডিজেলচালিত একাধিক ইউনিটের ট্রেনসেটও সরবরাহ করেছে তারা।

ভারতের নবরত্ন মর্যাদাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার ৫৫টির বেশি দেশে বিভিন্ন রেল ও অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত থেকে আসছে ২০০ রেল কোচ, প্রথম চালানে ১৮টি

আপডেট সময় : ১২:২২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য প্রথম দফায় ১৮টি আধুনিক ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ পাঠিয়েছে ভারত। নতুন এসব কোচে যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তার পাশাপাশি শিশুযত্নের আলাদা কক্ষ, প্রার্থনাকক্ষ এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহের চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম চালানে ১৮টি কোচ পাঠানো হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর এসব কোচের চালান পাঠানো হয়।

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায় কোচগুলো তৈরি করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মোট সাত ধরনের যাত্রীবাহী কোচ নির্মাণ ও সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রথম চালানে পাঠানো ১৮টি কোচের মধ্যে রয়েছে ১১টি শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন শোভন চেয়ার কার, তিনটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত চেয়ার কার, দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্লিপার কোচ এবং দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পাওয়ার কার। পাওয়ার কারগুলোতে ট্রেনের গার্ডের জন্য পৃথক কক্ষের পাশাপাশি মালপত্র রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।

ভারতের রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে দেশটির রেল কোচ কারখানার সহযোগিতা শুরু হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। সে সময় বাংলাদেশকে ১২০টি এলএইচবি ধরনের ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করা হয়েছিল।ওই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে রাইটস লিমিটেডের মাধ্যমে আরও ২০০টি ব্রডগেজ কোচ তৈরির কার্যাদেশ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন চুক্তির আওতায় সাত ধরনের কোচ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশের রেলপথের অবকাঠামো, পরিচালনাগত চাহিদা এবং যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনায় নতুন কোচগুলোর নকশায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আধুনিক আসন ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন কোচগুলোতে বিশেষভাবে তৈরি হেলান দেওয়া যায় এমন আসন যুক্ত করা হয়েছে। এসব আসনে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পা রাখার জায়গা রয়েছে। যাত্রীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কোণে আসন হেলিয়ে বসতে পারবেন।

এ ছাড়া শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোচেও পাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় থাকছে সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, জরুরি সংকেত দেওয়ার সুবিধা এবং আংশিক খোলা যায় এমন জানালা।

বিশেষ সুবিধা হিসেবে কোচগুলোতে শিশুদের যত্ন নেওয়ার জন্য পৃথক কক্ষ এবং যাত্রীদের প্রার্থনার জন্য আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে। ভারতের রেল মন্ত্রণালয়ের দাবি, এলএইচবি ধরনের কোচে প্রথমবারের মতো কয়েকটি নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের রেলপথে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের বিষয়টিও কোচ তৈরির সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভিড়ের সময় যাত্রীরা ছাদে উঠে পড়লে অতিরিক্ত ওজন বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে কোচগুলোর ছাদ আরও মজবুত করা হয়েছে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন কোচে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় যাত্রীদের সুরক্ষা বাড়াতে ইউরোপীয় মানদণ্ড ইএন ১৫২২৭ অনুসরণ করে কোচগুলোর কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য কোচের বাইরের মূল কাঠামোর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার সময় ধাক্কা সহ্য করার সক্ষমতা বাড়ে এবং যাত্রীদের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন এনেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। ভারতের প্রচলিত রেল কোচে ৭৫০ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশের জন্য তৈরি নতুন কোচগুলো ৪১৫ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পরিচালনার উপযোগী করা হয়েছে।

এদিকে রাইটস লিমিটেড জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত ২৮০টির বেশি রেল ইঞ্জিন এবং ১ হাজার ৮৫টির বেশি যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি ডিজেলচালিত একাধিক ইউনিটের ট্রেনসেটও সরবরাহ করেছে তারা।

ভারতের নবরত্ন মর্যাদাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার ৫৫টির বেশি দেশে বিভিন্ন রেল ও অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।