ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদের পর প্রশাসনে বড় রদবদল আসছে

ঈদের পর প্রশাসনে বড় রদবদল আসছে

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্থবিরতা কাটাতে নেওয়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বড় একটি অংশ বাতিলের পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার। আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত এসব চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে। মূলত মেধাভিত্তিক ও নিয়মিত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জনপ্রশাসনকে গতিশীল করতেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বা মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে জনপ্রশাসনকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের সরিয়ে সেই জায়গায় নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে। তবে রোজার মাসে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে ঈদের পরেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তনের হাওয়া ইতোমধ্যেই বইতে শুরু করেছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদের চুক্তি বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যদিও তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।

এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান সিরাজ উদ্দিন মিয়া, যিনি নিজেও একদিন পর পদত্যাগের আবেদন করেন। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিদায়ী এই দুই কর্মকর্তাই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানও সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

সরকারি তথ্যমতে, বর্তমানে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার অন্তত ১৮ জন কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নিয়োজিত আছেন। যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বাদে প্রায় সবাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পেয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • মন্ত্রিপরিষদ ও পরিকল্পনা: মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, পরিকল্পনা কমিশনের মো. মোখলেস উর রহমান ও এমএ আকমল হোসেন আজাদ।

  • মন্ত্রণালয় ও দপ্তর: জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হক, নির্বাচন কমিশনের আখতার আহমেদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মমতাজ আহমেদ, এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের এএসএম সালেহ আহমেদ।

  • অন্যান্য: বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরিফা খান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের শীষ হায়দার চৌধুরীসহ আরও বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে সাময়িক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের পর বর্তমানে আরও তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে নিযুক্ত উপাচার্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নিয়মিত নিয়োগের মাধ্যমে স্থায়িত্ব ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পাঁচ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

ঈদের পর প্রশাসনে বড় রদবদল আসছে

আপডেট সময় : ১০:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্থবিরতা কাটাতে নেওয়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বড় একটি অংশ বাতিলের পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার। আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত এসব চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে। মূলত মেধাভিত্তিক ও নিয়মিত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জনপ্রশাসনকে গতিশীল করতেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বা মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে জনপ্রশাসনকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের সরিয়ে সেই জায়গায় নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে। তবে রোজার মাসে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে ঈদের পরেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তনের হাওয়া ইতোমধ্যেই বইতে শুরু করেছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদের চুক্তি বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যদিও তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।

এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান সিরাজ উদ্দিন মিয়া, যিনি নিজেও একদিন পর পদত্যাগের আবেদন করেন। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিদায়ী এই দুই কর্মকর্তাই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানও সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

সরকারি তথ্যমতে, বর্তমানে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার অন্তত ১৮ জন কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নিয়োজিত আছেন। যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বাদে প্রায় সবাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পেয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • মন্ত্রিপরিষদ ও পরিকল্পনা: মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, পরিকল্পনা কমিশনের মো. মোখলেস উর রহমান ও এমএ আকমল হোসেন আজাদ।

  • মন্ত্রণালয় ও দপ্তর: জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হক, নির্বাচন কমিশনের আখতার আহমেদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মমতাজ আহমেদ, এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের এএসএম সালেহ আহমেদ।

  • অন্যান্য: বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরিফা খান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের শীষ হায়দার চৌধুরীসহ আরও বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে সাময়িক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের পর বর্তমানে আরও তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে নিযুক্ত উপাচার্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নিয়মিত নিয়োগের মাধ্যমে স্থায়িত্ব ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।