ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাল সংসদের প্রথম অধিবেশন, স্পিকার নির্বাচন ও জুলাই সনদে উত্তাপের আশঙ্কা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনে নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশন বসবে। অধিবেশনের শুরুতেই বছরের প্রথম অধিবেশনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অধিবেশন ঘিরে ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সংসদের প্রথম দিনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টি নির্ধারিত রয়েছে। সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে জামায়াত এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। দলটি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছে।

এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদের বিধান অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখার দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী শিবিরের কিছু অংশ।

জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য বিরোধী দলের মোট ৭৭ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন না হলে ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছে বিরোধী দল।

এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদে ভাষণ দিতে না দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই দাবিতে সভা-সমাবেশের পাশাপাশি সংসদের ভেতরেও জোরালো বক্তব্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১২ মার্চ সংসদ ভবনের সামনে মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

প্রথা অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদের ভেতরে ও রাজপথে আন্দোলন চলবে। তার মতে, দেশের মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং সেই জনরায়কে উপেক্ষা করা হলে তা জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে অস্বীকার করার শামিল হবে।

অন্যদিকে সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, সরকার সংসদকে কার্যকর করতে সব দলকে নিয়ে কাজ করতে চায়। তিনি জানান, সংসদে সমন্বয়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতেই বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, অতীতের সংসদগুলোতে প্রকৃত বিরোধী দলের অভাব ছিল, তবে এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন অবরোধ আলোচনার অন্তরায়, ট্রাম্পকে জানাল পাকিস্তান

কাল সংসদের প্রথম অধিবেশন, স্পিকার নির্বাচন ও জুলাই সনদে উত্তাপের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:৫২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনে নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশন বসবে। অধিবেশনের শুরুতেই বছরের প্রথম অধিবেশনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অধিবেশন ঘিরে ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সংসদের প্রথম দিনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টি নির্ধারিত রয়েছে। সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে জামায়াত এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। দলটি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছে।

এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদের বিধান অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখার দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী শিবিরের কিছু অংশ।

জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য বিরোধী দলের মোট ৭৭ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন না হলে ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছে বিরোধী দল।

এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদে ভাষণ দিতে না দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই দাবিতে সভা-সমাবেশের পাশাপাশি সংসদের ভেতরেও জোরালো বক্তব্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১২ মার্চ সংসদ ভবনের সামনে মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

প্রথা অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের অধিকার আদায়ে সংসদের ভেতরে ও রাজপথে আন্দোলন চলবে। তার মতে, দেশের মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং সেই জনরায়কে উপেক্ষা করা হলে তা জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে অস্বীকার করার শামিল হবে।

অন্যদিকে সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, সরকার সংসদকে কার্যকর করতে সব দলকে নিয়ে কাজ করতে চায়। তিনি জানান, সংসদে সমন্বয়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতেই বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, অতীতের সংসদগুলোতে প্রকৃত বিরোধী দলের অভাব ছিল, তবে এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।