আর্থিক খাতে চরম সংকটে থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (পিএলএফএসএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাগীর হোসেন খান ও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন এবং আমানতকারীদের অর্থ অপচয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ব্যক্তিগত আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচতে এবং অন্যকে বিপাকে ফেলতে গ্রাহকের গচ্ছিত অর্থ অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক আইন প্রধান।
প্রাপ্ত অভিযোগের তথ্যানুসারে, পিপলস লিজিংয়ের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাগীর হোসেন খান এবং কতিপয় কর্মকর্তা গত জুলাই আন্দোলনের সময় নিজেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ব্যক্তিগত মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য পল্টন থানায় ১০ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করেন। এছাড়া ২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বদিউল আলম নামক এক কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার করানোর উদ্দেশ্যে রমনা থানায় আরও ৫ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিশাল অংকের অবৈধ আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে চেকের মাধ্যমে, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন প্রতিষ্ঠানের ‘বেলাল’ নামের একজন চালক। বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটাতে এভাবে প্রায় কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
পি কে হালদারের তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ফলে পিপলস লিজিং বর্তমানে একটি জরাজীর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আদালতের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান বোর্ড ও এমডি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। গত তিন বছর ধরে একই পরিচালনা পর্ষদ ও এমডি বহাল থাকায় সরকার পরিবর্তনের পরও কোনো দৃশ্যমান সংস্কার হয়নি। উল্টো আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ না করে সেই অর্থ ব্যক্তিগত ও অবৈধ কাজে অপচয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
দুর্নীতির এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিতে সাবেক আইন প্রধান ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং ডিসি (মতিঝিল)-এর কাছে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিসহ লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান এমডি সাগীর হোসেন খান তার পদের মেয়াদ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নতুন করে আবেদন করেছেন।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, জনগণের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাগীর হোসেনসহ অভিযুক্তদের দ্রুত অপসারণ করে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিচার নিশ্চিত করা হোক।
আমানতকারীদের অর্থ ফেরত এবং প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

























