ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই থেকেই কেন শুরু হয় অর্থবছর?

জুলাই থেকেই কেন শুরু হয় অর্থবছর?

মানব ইতিহাসের প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতার হাত ধরে পৃথিবীতে প্রথম পঞ্জিকা ব্যবস্থার প্রচলন ঘটেছিল। সময়ের ধারাবাহিকতায় সেই আদি গণনা পদ্ধতি বিকশিত হয়ে বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রায় ৮০টি ভিন্ন ভিন্ন পঞ্জিকা চালু রয়েছে, যার মধ্যে রাষ্ট্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যুক্ত হয়েছে বিশেষ অর্থবছরভিত্তিক পঞ্জিকা।

বাংলাদেশে সাধারণ জীবনযাত্রায় বাংলা সন ও খ্রিষ্টীয় সন অনুসরণ করা হলেও দেশের সব ধরনের সরকারি আর্থিক হিসাব-নিকাশ গণনা করা হয় জুলাই মাস থেকে। প্রতি বছরের ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কালকে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থবছর ধরে দেশের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও পেশ করা হয়। ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীন বাংলাদেশের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এই জুলাই-জুন ভিত্তিক অর্থবছর অনুসারেই বাজেট প্রস্তুত করার এই ঐতিহাসিক রেওয়াজ চলে আসছে।

সাধারণত যেকোনো স্বাধীন দেশের আবহাওয়া, কৃষি উৎপাদন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নানাবিধ সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে অর্থবছরের এই নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে জুলাই মাসটি মূলত বর্ষা মৌসুমের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে পড়ে। এই সময়ে দেশের কৃষকদের জমিতে প্রধান ফসল থাকে এবং তার কয়েক মাস পরেই তা কৃষকের ঘরে ওঠে, আবার দেশের কিছু নিচু অঞ্চলে এর মধ্যেই আগাম ফসল কাটা সম্পূর্ণ হয়ে যায়।

নতুন পে-স্কেলে আলাদা বরাদ্দ থাকছে নানতুন পে-স্কেলে আলাদা বরাদ্দ থাকছে না
ফলে বছরের এই বিশেষ সময়টি গ্রামীণ কৃষিখাতের প্রকৃত চাহিদা, উৎপাদন ও সম্ভাবনা নিখুঁতভাবে মূল্যায়ন করে বাজেট-সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। মূলত কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ হওয়ায় দেশের কৃষিব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই যুগে যুগে জুলাই থেকে অর্থবছর নির্ধারণের এই ঐতিহ্যবাহী প্রথা চালু রাখা হয়েছে।

এই অর্থনৈতিক পঞ্জিকার পেছনে শুধু কৃষি নয়, বরং এক ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সুবিধাও কাজ করে। দেশের রাজনৈতিক দিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, সাধারণত বছরের শুরুতে অর্থাৎ জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন কোনো রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে তারা পরবর্তী বাজেট প্রণয়নের জন্য হাতে প্রায় ৪ থেকে ৫ মাস পর্যাপ্ত সময় পায়। এই দীর্ঘ সময়ে নতুন সরকার দেশের সাধারণ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের দেওয়া নির্বাচনি ইশতেহারের নানা প্রতিফলন বাজেটে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার একটি বড় সুযোগ পায়।

দেশীয় বাস্তবতার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য পশ্চিমা উন্নত দেশের অর্থবছরের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখাও এই জুলাই-জুন অর্থবছর টিকে থাকার অন্যতম একটি প্রধান কারণ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন বৈদেশিক ঋণ, অনুদান এবং আর্থিক লেনদেনের হিসাব-নিকাশ সঠিকভাবে পরিচালনা করা এর ফলে তুলনামূলক অনেক সহজ হয়।

জাতির প্রত্যাশা পূরণের লক্ষেই এবারের বাজেট প্রণয়ন: অর্থমন্ত্রীজাতির প্রত্যাশা পূরণের লক্ষেই এবারের বাজেট প্রণয়ন: অর্থমন্ত্রী
বিশেষ করে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব অর্থবছর জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়ার কারণে তাদের দেওয়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সময়সূচির সাথে মিল রেখে বাংলাদেশ এই জুলাই-জুন পদ্ধতি অনুসরণ করায় উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নানা ধরনের বাড়তি সুবিধা পায়। উল্লেখ্য যে একসময় পাকিস্তান সরকার এপ্রিল মাসকে অর্থবছরের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করলেও পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ও আর্থিক সহায়তার জটিল প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্য আনতে তারাও আবার জুলাই মাসকে অর্থবছরের প্রথম মাস হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিল।

অবশ্য দেশের অনেক অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক বিশ্লেষক এই প্রচলিত অর্থবছরের সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন। তাদের মতে বাংলাদেশে জুন মাসে পুরোদমে বর্ষাকাল শুরু হওয়ার কারণে দেশের অনেক নিচু অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায় এবং মাঝেমধ্যে দেশজুড়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।

ঠিক এমন একটি দুর্যোগপূর্ণ সময়ে একটি বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মুহূর্তের বরাদ্দ খরচ করা এবং নতুন আরেকটি অর্থবছরের অর্থ বরাদ্দ ও তার ব্যবহার নিশ্চিত করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ে চরম প্রশাসনিক অসামঞ্জস্যতার সৃষ্টি হয়। এই জটিলতা এড়াতে অনেক বিশেষজ্ঞই বাংলাদেশের অর্থবছর পরিবর্তন করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের আদলে এপ্রিল থেকে শুরু করার জন্য সরকারের কাছে একাধিকবার জোরালো মতামত দিয়েছিলেন।

সিগারেট-মদসহ যেসব জিনিসের দাম বাড়তে পারেসিগারেট-মদসহ যেসব জিনিসের দাম বাড়তে পারে
তবে আধুনিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশের বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ রাস্তাঘাট বা বড় অবকাঠামো ও নির্মাণসংক্রান্ত কার্যক্রম কিছুটা ঋতুনির্ভর হলেও দেশের অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক কার্যক্রম সরাসরি এই ঋতু পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না। তাদের মতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন না হওয়া বা বার্ষিক ব্যয় ব্যবস্থাপনায় যে বড় বড় সমস্যাগুলো দেখা যায়, তার মূল কারণ কোনো ঋতু পরিবর্তন নয় বরং সময়মতো অর্থ বরাদ্দ না হওয়া এবং আমলাতান্ত্রিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাই এর জন্য দায়ী।

সংশ্লিষ্টদের চূড়ান্ত অভিমত হলো দেশের বর্তমান প্রশাসনিক ও কাঠামোগত মূল কাঠামোতে প্রয়োজনীয় কোনো সংস্কার না এনে কেবল খাতা-কলমে অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তন করলে কোনো কাঙ্ক্ষিত সুফল আসবে না, বরং কার্যকর ফলাফল পেতে হলে প্রথমে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ একই পরিবারের দগ্ধ ৫

জুলাই থেকেই কেন শুরু হয় অর্থবছর?

আপডেট সময় : ১২:৫৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

মানব ইতিহাসের প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতার হাত ধরে পৃথিবীতে প্রথম পঞ্জিকা ব্যবস্থার প্রচলন ঘটেছিল। সময়ের ধারাবাহিকতায় সেই আদি গণনা পদ্ধতি বিকশিত হয়ে বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রায় ৮০টি ভিন্ন ভিন্ন পঞ্জিকা চালু রয়েছে, যার মধ্যে রাষ্ট্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যুক্ত হয়েছে বিশেষ অর্থবছরভিত্তিক পঞ্জিকা।

বাংলাদেশে সাধারণ জীবনযাত্রায় বাংলা সন ও খ্রিষ্টীয় সন অনুসরণ করা হলেও দেশের সব ধরনের সরকারি আর্থিক হিসাব-নিকাশ গণনা করা হয় জুলাই মাস থেকে। প্রতি বছরের ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কালকে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থবছর ধরে দেশের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও পেশ করা হয়। ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীন বাংলাদেশের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এই জুলাই-জুন ভিত্তিক অর্থবছর অনুসারেই বাজেট প্রস্তুত করার এই ঐতিহাসিক রেওয়াজ চলে আসছে।

সাধারণত যেকোনো স্বাধীন দেশের আবহাওয়া, কৃষি উৎপাদন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নানাবিধ সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে অর্থবছরের এই নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে জুলাই মাসটি মূলত বর্ষা মৌসুমের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে পড়ে। এই সময়ে দেশের কৃষকদের জমিতে প্রধান ফসল থাকে এবং তার কয়েক মাস পরেই তা কৃষকের ঘরে ওঠে, আবার দেশের কিছু নিচু অঞ্চলে এর মধ্যেই আগাম ফসল কাটা সম্পূর্ণ হয়ে যায়।

নতুন পে-স্কেলে আলাদা বরাদ্দ থাকছে নানতুন পে-স্কেলে আলাদা বরাদ্দ থাকছে না
ফলে বছরের এই বিশেষ সময়টি গ্রামীণ কৃষিখাতের প্রকৃত চাহিদা, উৎপাদন ও সম্ভাবনা নিখুঁতভাবে মূল্যায়ন করে বাজেট-সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। মূলত কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ হওয়ায় দেশের কৃষিব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই যুগে যুগে জুলাই থেকে অর্থবছর নির্ধারণের এই ঐতিহ্যবাহী প্রথা চালু রাখা হয়েছে।

এই অর্থনৈতিক পঞ্জিকার পেছনে শুধু কৃষি নয়, বরং এক ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সুবিধাও কাজ করে। দেশের রাজনৈতিক দিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, সাধারণত বছরের শুরুতে অর্থাৎ জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন কোনো রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে তারা পরবর্তী বাজেট প্রণয়নের জন্য হাতে প্রায় ৪ থেকে ৫ মাস পর্যাপ্ত সময় পায়। এই দীর্ঘ সময়ে নতুন সরকার দেশের সাধারণ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের দেওয়া নির্বাচনি ইশতেহারের নানা প্রতিফলন বাজেটে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার একটি বড় সুযোগ পায়।

দেশীয় বাস্তবতার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য পশ্চিমা উন্নত দেশের অর্থবছরের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখাও এই জুলাই-জুন অর্থবছর টিকে থাকার অন্যতম একটি প্রধান কারণ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন বৈদেশিক ঋণ, অনুদান এবং আর্থিক লেনদেনের হিসাব-নিকাশ সঠিকভাবে পরিচালনা করা এর ফলে তুলনামূলক অনেক সহজ হয়।

জাতির প্রত্যাশা পূরণের লক্ষেই এবারের বাজেট প্রণয়ন: অর্থমন্ত্রীজাতির প্রত্যাশা পূরণের লক্ষেই এবারের বাজেট প্রণয়ন: অর্থমন্ত্রী
বিশেষ করে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব অর্থবছর জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়ার কারণে তাদের দেওয়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সময়সূচির সাথে মিল রেখে বাংলাদেশ এই জুলাই-জুন পদ্ধতি অনুসরণ করায় উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নানা ধরনের বাড়তি সুবিধা পায়। উল্লেখ্য যে একসময় পাকিস্তান সরকার এপ্রিল মাসকে অর্থবছরের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করলেও পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ও আর্থিক সহায়তার জটিল প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্য আনতে তারাও আবার জুলাই মাসকে অর্থবছরের প্রথম মাস হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিল।

অবশ্য দেশের অনেক অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক বিশ্লেষক এই প্রচলিত অর্থবছরের সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন। তাদের মতে বাংলাদেশে জুন মাসে পুরোদমে বর্ষাকাল শুরু হওয়ার কারণে দেশের অনেক নিচু অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায় এবং মাঝেমধ্যে দেশজুড়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।

ঠিক এমন একটি দুর্যোগপূর্ণ সময়ে একটি বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মুহূর্তের বরাদ্দ খরচ করা এবং নতুন আরেকটি অর্থবছরের অর্থ বরাদ্দ ও তার ব্যবহার নিশ্চিত করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ে চরম প্রশাসনিক অসামঞ্জস্যতার সৃষ্টি হয়। এই জটিলতা এড়াতে অনেক বিশেষজ্ঞই বাংলাদেশের অর্থবছর পরিবর্তন করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের আদলে এপ্রিল থেকে শুরু করার জন্য সরকারের কাছে একাধিকবার জোরালো মতামত দিয়েছিলেন।

সিগারেট-মদসহ যেসব জিনিসের দাম বাড়তে পারেসিগারেট-মদসহ যেসব জিনিসের দাম বাড়তে পারে
তবে আধুনিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশের বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ রাস্তাঘাট বা বড় অবকাঠামো ও নির্মাণসংক্রান্ত কার্যক্রম কিছুটা ঋতুনির্ভর হলেও দেশের অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক কার্যক্রম সরাসরি এই ঋতু পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না। তাদের মতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন না হওয়া বা বার্ষিক ব্যয় ব্যবস্থাপনায় যে বড় বড় সমস্যাগুলো দেখা যায়, তার মূল কারণ কোনো ঋতু পরিবর্তন নয় বরং সময়মতো অর্থ বরাদ্দ না হওয়া এবং আমলাতান্ত্রিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাই এর জন্য দায়ী।

সংশ্লিষ্টদের চূড়ান্ত অভিমত হলো দেশের বর্তমান প্রশাসনিক ও কাঠামোগত মূল কাঠামোতে প্রয়োজনীয় কোনো সংস্কার না এনে কেবল খাতা-কলমে অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তন করলে কোনো কাঙ্ক্ষিত সুফল আসবে না, বরং কার্যকর ফলাফল পেতে হলে প্রথমে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।