ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো অনুরোধ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই বিষয়টি তাদের পর্যালোচনায় রয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসা শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আবেদনটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গেই ভারত গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি ভারত সরকারের তত্ত্বাবধানে নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে দিল্লির ওপর তাগিদ দিয়ে আসছিল।
সম্প্রতি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নতুন সরকার সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর যে আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, সে বিষয়েও ব্রিফিংয়ে আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
কয়েক দিন আগেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ভারত সবসময় গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায়। এর আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে অবস্থান জানিয়েছিলেন, বর্তমানেও ভারত সেই অবস্থানেই অটল রয়েছে।


























