ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিকেন পক্স কেন হয়? আক্রান্ত হলে কী করবেন?

চিকেন পক্স বা জলবসন্ত একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। বছরের যেকোনো সময় এটি হতে পারে।

তবে আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় বিশেষ করে শীতের শেষে ও বসন্তের শুরুতে এর প্রাদুর্ভাব ব্যাপক আকার ধারণ করে। সচেতনতা ও নিয়মমাফিক পরিচর্যা এ রোগ থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার প্রধান উপায়।

ভ্যারিসেলা জোস্টার ভাইরাসের কারণে চিকেন পক্স হয়। ভাইরাসটি শ্বাসনালি সংক্রমিত করার মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে এবং ত্বকে ফুসকুড়ির সৃষ্টি করে। এটি বায়ুবাহিত রোগ। অত্যধিক ছোঁয়াচে হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ শৈশব বা কৈশোরেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। সাধারণত জলবসন্তে আক্রান্ত হলে শরীরে এ রোগের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, যা পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দেয়। তবে রোগটি যাদের আগে কখনো হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা বেশি।

চিকেন পক্সে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি-সর্দি, ব্যবহৃত জামাকাপড়, তোয়ালে ও সরাসরি সংস্পর্শে এটি ছড়ায়। ভ্যারিসেলা ভাইরাস বাতাসে ভেসে থাকতে পারে, কোনো বস্তুর সঙ্গে লেগে থেকেও মানুষের সংস্পর্শে এসেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে। ফুসকুড়ির পানি থেকেও অন্যজন সংক্রমিত হতে পারে। যতক্ষণ ফোসকা শুকিয়ে না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত ভাইরাসটি অন্যদের সংক্রমিত করতেই থাকে।

চিকেন পক্সের ঝুঁকি ও জটিলতা কমাতে শিশুর বয়স এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিয়ে টিকা দিন। পূর্ণ সুরক্ষার জন্য মোট দুটি ডোজ নিতে হয়। প্রথমবার টিকা গ্রহণের পর ছয় মাস অতিবাহিত হলে শিশুকে আরেক ডোজ টিকা দিন। টিকা গ্রহণ করলে পক্স হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায় না, তবে এটি রোগের তীব্রতা ও ভয়াবহতা অনেক কমিয়ে দেয়। টিকা নেয়া থাকলে পক্স হলেও তা খুব সামান্য পর্যায়ে থাকে এবং বড় কোনো শারীরিক জটিলতা তৈরি করে না।

আক্রান্ত হলে কার জন্য ঝুঁকি বেশি: নবজাতক, গর্ভবতী নারী ও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

চিকেন পক্স বা ভ্যারিসেলা-জোস্টার সংক্রমণের ফলে নিম্নোক্ত জটিলতাগুলো দেখা দিতে পারে—

মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা: এনসেফালোপ্যাথি, সেরেবেলাইটিস, গুলেন-বারে সিনড্রোম এবং অ্যাসেপটিক মেনিনজাইটিস।

ফুসফুস ও লিভারের সমস্যা: নিউমোনিয়া ও হেপাটাইটিস।

রক্ত ও ত্বকজনিত সমস্যা: থ্রম্বোসাইটোপেনিক পারপুরা, পারপুরা ফুলমিন্যান্স, সেলুলাইটিস বা ত্বকের গভীর সংক্রমণ এবং ফোড়া হওয়া।

অন্যান্য আরো কিছু জটিলতা: চিকেন পক্সের কারণে আর্থ্রাইটিস ও রেয়ে’স সিনড্রোম হতে পারে। এছাড়া যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত কম, তাদের ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে। এতে মেনিনগোএনসেফালোপ্যাথি, নিউমোনিয়া ও হেপাটাইটিস একসঙ্গে দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ।

কখন জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

 ফুসকুড়িগুলো যদি চোখের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।

 যদি প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট বা একটানা কাশি শুরু হয়।

 যদি রোগী অস্বাভাবিক তন্দ্রাচ্ছন্ন বা অচেতন হয়ে পড়ে।

 ফুসকুড়ির চারপাশ যদি অতিরিক্ত লাল হয়ে ফুলে যায় বা পুঁজ দেখা দেয়।

করণীয়

সাধারণত বিশ্রামে থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং পুষ্টিকর তরল খাবার খাওয়ার মাধ্যমে কিছুদিনের ব্যবধানে রোগটি সেরে যায়। তবু ক্ষেত্রবিশেষে জ্বর, ব্যথা ও চুলকানির জন্য চিকিৎসক প্যারাসিটামল বা অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দিতে পারেন। ফুসকুড়িতে ব্যবহারের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম ও ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। জটিলতা খুব বেশি হলে কখনো কখনো হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, তাদের ভ্যারিসেলা নিউমোনিয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ইনজেকশনের মাধ্যমে অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগের চিকিৎসা নিতে হবে। এছাড়া আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন এ সময় অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা যাবে না। এ-জাতীয় ওষুধ সেবনে রেয়ে’স সিনড্রোম হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য কেবল ওষুধ নয়, সঠিক পরিবেশ ও খাদ্যাভ্যাসও নিশ্চিত করা জরুরি।

 রোগীকে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসপূর্ণ আলাদা ঘরে রাখতে হবে। অন্তত ৭-১০ দিন বাইরের মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা ভালো।

 আঙুলের নখ ছোট রাখুন। কষ্ট হলেও শরীর চুলকানো থেকে বিরত থাকুন। এতে ক্ষত ও দাগ সৃষ্টি হতে পারে।

 নিমপাতা পানিতে ফুটিয়ে সে পানিতে গোসল দিতে পারেন। নিমের অ্যান্টিসেপটিক উপাদান পক্স নির্মূল করতে সাহায্য করে।

 ঠাণ্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে নিতে পারেন। এতে চুলকানি ও ব্যথা কিছুটা কম অনুভব হবে।

 সহজপাচ্য ও তরল খাবার খেতে পারেন। মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন।

 চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক সেবন করবেন না।

বয়স ও প্রকোপ: সাধারণত ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।

রোগের ধরন: এটি সাধারণত মৃদু প্রকৃতির এবং নির্দিষ্ট সময় পর নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত কম, তাদের জন্য এটি মারাত্মক বা প্রাণঘাতী হতে পারে।

সুপ্তিকাল: শরীরে জীবাণু প্রবেশের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে ১০-২১ দিন সময় লাগতে পারে।

একনজরে চিকেন পক্স-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

উপসর্গ ও র‍্যাশের প্রকৃতি: হালকা জ্বর, শরীর ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য ও হামের মতো ফুসকুড়ি দিয়ে শুরু হয়। ফুসকুড়িগুলো চুলকানিযুক্ত হয়, প্রথমে জলের ফোঁটার মতো দেখায়, পরে পুঁজ ভর্তি হয় এবং অবশেষে মামড়ি পড়ে। ফুসকুড়ি বুক ও পিঠ থেকে শুরু হয়ে হাত ও পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। এক এক জায়গায় একই সময়ে ফুসকুড়ির বিভিন্ন পর্যায় লক্ষ করা যায়।

সাধারণ ক্ষেত্রে চিকিৎসা: পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করা। চুলকানি কমানোর জন্য ওষুধ ব্যবহার করা।

বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসা: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, এমন শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ—অ্যাসাইক্লোভির মুখে খাওয়ার জন্য বা শিরার মাধ্যমে দেয়া যেতে পারে।

চিকেন পক্স কেন হয়? আক্রান্ত হলে কী করবেন?

আপডেট সময় : ১২:২৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

চিকেন পক্স বা জলবসন্ত একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। বছরের যেকোনো সময় এটি হতে পারে।

তবে আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় বিশেষ করে শীতের শেষে ও বসন্তের শুরুতে এর প্রাদুর্ভাব ব্যাপক আকার ধারণ করে। সচেতনতা ও নিয়মমাফিক পরিচর্যা এ রোগ থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার প্রধান উপায়।

ভ্যারিসেলা জোস্টার ভাইরাসের কারণে চিকেন পক্স হয়। ভাইরাসটি শ্বাসনালি সংক্রমিত করার মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে এবং ত্বকে ফুসকুড়ির সৃষ্টি করে। এটি বায়ুবাহিত রোগ। অত্যধিক ছোঁয়াচে হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ শৈশব বা কৈশোরেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। সাধারণত জলবসন্তে আক্রান্ত হলে শরীরে এ রোগের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, যা পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দেয়। তবে রোগটি যাদের আগে কখনো হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা বেশি।

চিকেন পক্সে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি-সর্দি, ব্যবহৃত জামাকাপড়, তোয়ালে ও সরাসরি সংস্পর্শে এটি ছড়ায়। ভ্যারিসেলা ভাইরাস বাতাসে ভেসে থাকতে পারে, কোনো বস্তুর সঙ্গে লেগে থেকেও মানুষের সংস্পর্শে এসেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে। ফুসকুড়ির পানি থেকেও অন্যজন সংক্রমিত হতে পারে। যতক্ষণ ফোসকা শুকিয়ে না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত ভাইরাসটি অন্যদের সংক্রমিত করতেই থাকে।

চিকেন পক্সের ঝুঁকি ও জটিলতা কমাতে শিশুর বয়স এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিয়ে টিকা দিন। পূর্ণ সুরক্ষার জন্য মোট দুটি ডোজ নিতে হয়। প্রথমবার টিকা গ্রহণের পর ছয় মাস অতিবাহিত হলে শিশুকে আরেক ডোজ টিকা দিন। টিকা গ্রহণ করলে পক্স হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায় না, তবে এটি রোগের তীব্রতা ও ভয়াবহতা অনেক কমিয়ে দেয়। টিকা নেয়া থাকলে পক্স হলেও তা খুব সামান্য পর্যায়ে থাকে এবং বড় কোনো শারীরিক জটিলতা তৈরি করে না।

আক্রান্ত হলে কার জন্য ঝুঁকি বেশি: নবজাতক, গর্ভবতী নারী ও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

চিকেন পক্স বা ভ্যারিসেলা-জোস্টার সংক্রমণের ফলে নিম্নোক্ত জটিলতাগুলো দেখা দিতে পারে—

মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা: এনসেফালোপ্যাথি, সেরেবেলাইটিস, গুলেন-বারে সিনড্রোম এবং অ্যাসেপটিক মেনিনজাইটিস।

ফুসফুস ও লিভারের সমস্যা: নিউমোনিয়া ও হেপাটাইটিস।

রক্ত ও ত্বকজনিত সমস্যা: থ্রম্বোসাইটোপেনিক পারপুরা, পারপুরা ফুলমিন্যান্স, সেলুলাইটিস বা ত্বকের গভীর সংক্রমণ এবং ফোড়া হওয়া।

অন্যান্য আরো কিছু জটিলতা: চিকেন পক্সের কারণে আর্থ্রাইটিস ও রেয়ে’স সিনড্রোম হতে পারে। এছাড়া যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত কম, তাদের ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে। এতে মেনিনগোএনসেফালোপ্যাথি, নিউমোনিয়া ও হেপাটাইটিস একসঙ্গে দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ।

কখন জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

 ফুসকুড়িগুলো যদি চোখের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।

 যদি প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট বা একটানা কাশি শুরু হয়।

 যদি রোগী অস্বাভাবিক তন্দ্রাচ্ছন্ন বা অচেতন হয়ে পড়ে।

 ফুসকুড়ির চারপাশ যদি অতিরিক্ত লাল হয়ে ফুলে যায় বা পুঁজ দেখা দেয়।

করণীয়

সাধারণত বিশ্রামে থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং পুষ্টিকর তরল খাবার খাওয়ার মাধ্যমে কিছুদিনের ব্যবধানে রোগটি সেরে যায়। তবু ক্ষেত্রবিশেষে জ্বর, ব্যথা ও চুলকানির জন্য চিকিৎসক প্যারাসিটামল বা অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দিতে পারেন। ফুসকুড়িতে ব্যবহারের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম ও ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। জটিলতা খুব বেশি হলে কখনো কখনো হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, তাদের ভ্যারিসেলা নিউমোনিয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ইনজেকশনের মাধ্যমে অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগের চিকিৎসা নিতে হবে। এছাড়া আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন এ সময় অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা যাবে না। এ-জাতীয় ওষুধ সেবনে রেয়ে’স সিনড্রোম হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য কেবল ওষুধ নয়, সঠিক পরিবেশ ও খাদ্যাভ্যাসও নিশ্চিত করা জরুরি।

 রোগীকে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসপূর্ণ আলাদা ঘরে রাখতে হবে। অন্তত ৭-১০ দিন বাইরের মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা ভালো।

 আঙুলের নখ ছোট রাখুন। কষ্ট হলেও শরীর চুলকানো থেকে বিরত থাকুন। এতে ক্ষত ও দাগ সৃষ্টি হতে পারে।

 নিমপাতা পানিতে ফুটিয়ে সে পানিতে গোসল দিতে পারেন। নিমের অ্যান্টিসেপটিক উপাদান পক্স নির্মূল করতে সাহায্য করে।

 ঠাণ্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে নিতে পারেন। এতে চুলকানি ও ব্যথা কিছুটা কম অনুভব হবে।

 সহজপাচ্য ও তরল খাবার খেতে পারেন। মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন।

 চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক সেবন করবেন না।

বয়স ও প্রকোপ: সাধারণত ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।

রোগের ধরন: এটি সাধারণত মৃদু প্রকৃতির এবং নির্দিষ্ট সময় পর নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত কম, তাদের জন্য এটি মারাত্মক বা প্রাণঘাতী হতে পারে।

সুপ্তিকাল: শরীরে জীবাণু প্রবেশের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে ১০-২১ দিন সময় লাগতে পারে।

একনজরে চিকেন পক্স-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

উপসর্গ ও র‍্যাশের প্রকৃতি: হালকা জ্বর, শরীর ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য ও হামের মতো ফুসকুড়ি দিয়ে শুরু হয়। ফুসকুড়িগুলো চুলকানিযুক্ত হয়, প্রথমে জলের ফোঁটার মতো দেখায়, পরে পুঁজ ভর্তি হয় এবং অবশেষে মামড়ি পড়ে। ফুসকুড়ি বুক ও পিঠ থেকে শুরু হয়ে হাত ও পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। এক এক জায়গায় একই সময়ে ফুসকুড়ির বিভিন্ন পর্যায় লক্ষ করা যায়।

সাধারণ ক্ষেত্রে চিকিৎসা: পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করা। চুলকানি কমানোর জন্য ওষুধ ব্যবহার করা।

বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসা: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, এমন শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ—অ্যাসাইক্লোভির মুখে খাওয়ার জন্য বা শিরার মাধ্যমে দেয়া যেতে পারে।