ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেয়ারবাজারে বেমেয়াদি ফান্ডের লেনদেনে নতুন প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে

শেয়ারবাজারে বেমেয়াদি ফান্ডের লেনদেনে নতুন প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে

দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে আসছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এখন থেকে বেমেয়াদি বা ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচায় আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষায়িত ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসই। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই ডিজিটাল ব্যবস্থাটি চালু হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে মেয়াদি (ক্লোজড-এন্ড) মিউচুয়াল ফান্ডগুলো শেয়ারবাজারের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লেনদেন হলেও বেমেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে এই সুযোগ ছিল না। ফলে বিনিয়োগকারীদের সরাসরি সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির (এএমসি) দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতো। নতুন প্ল্যাটফর্মটি চালু হলে বিনিয়োগকারীরা যেকোনো ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে ঘরে বসেই কম্পিউটার বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে এই ইউনিটের লেনদেন করতে পারবেন।

বর্তমানে বেমেয়াদি ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচায় সেটেলমেন্ট সম্পন্ন হতে প্রায় ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে। তবে ডিএসইর নতুন এই উদ্যোগ সফল হলে ‘টি-ওয়ান’ (T+1) পদ্ধতিতে মাত্র এক কার্যদিবসের মধ্যেই বিও (BO) হিসাবে ইউনিট বা বিক্রির টাকা জমা হয়ে যাবে। এতে বিনিয়োগকারীদের সময় ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে।

নতুন এই সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির কাছে সরাসরি না গিয়েই নতুন ইউনিট তৈরি (ক্রিয়েশন) বা ইউনিট সংখ্যা কমানোর (রিডেম্পশন) কাজ সম্পন্ন করা যাবে। পুরো বিষয়টি প্রকৃত সম্পদমূল্যের (NAV) ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। এই প্ল্যাটফর্মটি স্টক এক্সচেঞ্জের বিকল্প লেনদেন বোর্ড (এটিবি), সিডিবিএল এবং কাস্টডিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান জানান, এই প্ল্যাটফর্মটি চালু হলে বিনিয়োগকারীদের সশরীরে এসে আবেদন ফরম জমা দেওয়ার ঝামেলা থাকবে না। দ্রুত সেটেলমেন্টের সুবিধা পাওয়ায় বেমেয়াদি ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বহুগুণ বাড়বে।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার বলেন:

“আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সমষ্টিগত বিনিয়োগ ব্যবস্থাকে সহজ করতেই এই উদ্যোগ। আমরা আশা করছি ৩০ জুনের মধ্যে এটি চালু হবে এবং এর আগে বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে।”

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ১০৪টি বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে, যেগুলোর মোট সম্পদমূল্য প্রায় ৮ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ৩৬টি মেয়াদি ফান্ডের বাজারমূল্য ৪ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী নতুন মেয়াদি ফান্ডের অনুমোদন বন্ধ থাকায় ভবিষ্যতে বেমেয়াদি ফান্ডের সংখ্যা আরও বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে এই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পুঁজিবাজারের অবকাঠামো আধুনিকায়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেয়ারবাজারে বেমেয়াদি ফান্ডের লেনদেনে নতুন প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে

আপডেট সময় : ১১:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে আসছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এখন থেকে বেমেয়াদি বা ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচায় আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষায়িত ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসই। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই ডিজিটাল ব্যবস্থাটি চালু হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে মেয়াদি (ক্লোজড-এন্ড) মিউচুয়াল ফান্ডগুলো শেয়ারবাজারের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লেনদেন হলেও বেমেয়াদি ফান্ডের ক্ষেত্রে এই সুযোগ ছিল না। ফলে বিনিয়োগকারীদের সরাসরি সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির (এএমসি) দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হতো। নতুন প্ল্যাটফর্মটি চালু হলে বিনিয়োগকারীরা যেকোনো ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে ঘরে বসেই কম্পিউটার বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে এই ইউনিটের লেনদেন করতে পারবেন।

বর্তমানে বেমেয়াদি ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচায় সেটেলমেন্ট সম্পন্ন হতে প্রায় ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে। তবে ডিএসইর নতুন এই উদ্যোগ সফল হলে ‘টি-ওয়ান’ (T+1) পদ্ধতিতে মাত্র এক কার্যদিবসের মধ্যেই বিও (BO) হিসাবে ইউনিট বা বিক্রির টাকা জমা হয়ে যাবে। এতে বিনিয়োগকারীদের সময় ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে।

নতুন এই সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির কাছে সরাসরি না গিয়েই নতুন ইউনিট তৈরি (ক্রিয়েশন) বা ইউনিট সংখ্যা কমানোর (রিডেম্পশন) কাজ সম্পন্ন করা যাবে। পুরো বিষয়টি প্রকৃত সম্পদমূল্যের (NAV) ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। এই প্ল্যাটফর্মটি স্টক এক্সচেঞ্জের বিকল্প লেনদেন বোর্ড (এটিবি), সিডিবিএল এবং কাস্টডিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান জানান, এই প্ল্যাটফর্মটি চালু হলে বিনিয়োগকারীদের সশরীরে এসে আবেদন ফরম জমা দেওয়ার ঝামেলা থাকবে না। দ্রুত সেটেলমেন্টের সুবিধা পাওয়ায় বেমেয়াদি ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বহুগুণ বাড়বে।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার বলেন:

“আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সমষ্টিগত বিনিয়োগ ব্যবস্থাকে সহজ করতেই এই উদ্যোগ। আমরা আশা করছি ৩০ জুনের মধ্যে এটি চালু হবে এবং এর আগে বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে।”

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ১০৪টি বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে, যেগুলোর মোট সম্পদমূল্য প্রায় ৮ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ৩৬টি মেয়াদি ফান্ডের বাজারমূল্য ৪ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী নতুন মেয়াদি ফান্ডের অনুমোদন বন্ধ থাকায় ভবিষ্যতে বেমেয়াদি ফান্ডের সংখ্যা আরও বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে এই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পুঁজিবাজারের অবকাঠামো আধুনিকায়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।