ইরানের বিরুদ্ধে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে অন্তত ৪২টি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার ভারতীয় সংবাদসংস্থা টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।
সিআরএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে। কারণ হিসেবে গোপনীয় তথ্য, চলমান সামরিক কার্যক্রম এবং ঘটনার দায় নির্ধারণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ ফাইটার জেট, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ আক্রমণ বিমান, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, একটি ই-৩ সেন্ট্রি এওয়াকস নজরদারি বিমান, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিশেষ অভিযান বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ হেলিকপ্টার, ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন।
মার্কিন কংগ্রেস ও সংশ্লিষ্ট কমিটিকে নীতিগত ও আইনি বিশ্লেষণ দিয়ে সহায়তাকারী সিআরএস জানিয়েছে, তারা প্রতিরক্ষা দপ্তর, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব তৈরি করেছে।
গত ১২ মে হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস সাবকমিটির এক শুনানিতে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস ডব্লিউ হার্স্ট-৩ জানান, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে।
তিনি বলেন, ‘এই ব্যয় বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামত ও প্রতিস্থাপনের হালনাগাদ হিসাব থেকে।’
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন, হারানো বিমান প্রতিস্থাপন এবং চলমান নৌ ও আকাশ অভিযান চালিয়ে যেতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে।



























