নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার দেওয়ানবাগ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আন্ডারপাস নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক কাজেই অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে এবং প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে বর্তমানে প্রকল্পটির সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানবাগ পয়েন্টে যানবাহন এবং পথচারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বন্দর উপজেলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এই আন্ডারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ হিসেবে ব্রিজের নিচে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের মাধ্যমে কাজের সূচনা করেন বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া হিরন।
পরবর্তীতে এই প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজ পান জাবেদ ও শাজাহান নামের দুই ব্যক্তি। কিন্তু কাজ শুরু হতেই তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, পূর্বে পরিষ্কার করা স্থানেই তারা পুনরায় নতুন করে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। এরপর সেই ময়লা আবার পরিষ্কার করার নাটক সাজিয়ে ভুয়া বিল বা কার্যক্রম দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি সাধারণ মানুষের নজরে আসতেই তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং কাজ বন্ধ করে দেন।
জনগণের প্রতিবাদের মুখে ঠিকাদাররা কাজ চালাতে ব্যর্থ হয়ে তা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। খবর পেয়ে বন্দর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, উত্থাপিত অভিযোগের সঠিক তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত ঠিকাদার জাবেদের বিরুদ্ধে এর আগেও ওলিপুরা-কেওঢালা সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের রেকর্ড রয়েছে। সেই সময়েও জনগণের আন্দোলনের মুখে কয়েক দফায় কাজ বন্ধ হয়েছিল। পরে অবশ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জবাবদিহি ও ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি কাজ শেষ করেন। উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের কারণে তিনি অতীতেও একাধিকবার জনরোষ ও প্রশাসনিক জবাবদিহির মুখোমুখি হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই জনগুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা পুরো প্রকল্পটিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি নয়, বরং দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্ডারপাসের কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
তবে এই অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ঠিকাদারদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।























