ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব: সংসদে আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,
পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের ভুয়া অভিযোগ তুলে প্রকল্পটি পিছিয়ে দেয়ার ঘটনায় বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব বলে সংসদে বলেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, এই ব্যবস্থা যেমন বাংলাদেশে নেয়া যাবে, তেমনি বিদেশেও নেয়া যায়।

রবিবার জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অন্যায় অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক যে মর্যাদাহানির চেষ্টা করেছে, সে জন্য তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মাফ চাইতে হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সেতু প্রকল্প পদ্মাসেতুতে দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে তোলপাড় হয়েছে। ২০১০ সালেই ওই সেতুর পরামর্শক নিয়োগে ঘুষ দেয়ার চক্রান্তের অভিযোগ আনে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ সরকার বরাবর এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও সে সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসনের বিরুদ্ধে মামলার দাবি জানায় বিশ্বব্যাংক।

একবার পদ্মাসেতুকে প্রতিশ্রুত ১২০ কোটি ডলার ঋণ স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে পরে আবার ফিরে আসে। এরপর তাদের শর্ত মেনে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে দুদক। আর সাত জনের বিরুদ্ধে মামলাও করে সংস্থাটি। কিন্তু আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে কিছু পাওয়া যায়নি জানিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে রাজি হয়নি বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

তবে বিশ্বব্যাংক এটা মেনে নিতে না পেরে ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই অর্থায়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। তারা সরে যাওয়ার পর জাইকা, এডিবি ও আইডিবিও সরকারের সঙ্গে ঋণচুক্তি বাতিল করে। এতে পদ্মাসেতু প্রকল্পটিই হুমকিতে পড়ে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ অর্থায়নে সেতু বানানোর সিদ্ধান্ত নেন। এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরেই সেতুটি চালু হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে এই ঘুষ চক্রান্ত নিয়ে কানাডার আদালতে চলা মামলার রায় প্রকাশ হয় স্থানীয় সময় শুক্রবার। এতে বিচারক বিশ্বব্যাংকের অভিযোগকে গালগপ্প ও উড়োকথা বলে বর্ণনা করে সব আসামিকে খালাস দেন।

আইনমন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘আজকে মর্যাদা পুনরুদ্ধার হয়েছে। পুনরুদ্ধার মানে কি, মানে সেদিন নষ্ট হয়েছিল। এই নষ্টের কারণ বিশ্বব্যাংক। আজ আমি এই সংসদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলতে চাই, এর জন্য বিশ্বব্যাংককে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মাফ চাইতে হবে।’

এর মধ্যে পদ্মাসেতুর কাজ অনেকটা এগিয়ে গেলেও অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের টালবাহানায় তা পিছিয়ে যায় পাঁচ বছর। কানাডা আদালতের রায় প্রকাশের পর বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক সংস্থাটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায় কি? বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, সংস্থাটিকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায় না।

তবে আইনমন্ত্রী বলছেন, বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া যায়। তিনি বলেন, ‘যারা এই মামলার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা যদি কোনো আইনজীবীর কাছে যান তারা নিশ্চয় এই পরামর্শ দেবেন, এর জন্য আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায়। এখন প্রশ্ন হলো অধিক্ষেত্রটা কোথায় হবে? সেটাও আইনজীবীরা বলে দেবেন। সেটা এখানেও হবে, ওখানেও হবে, আমি বলে দিলাম। বিনা পয়সায় এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’

আইনমন্ত্রী এই বক্তব্য দেয়ার পর সংসদে হাসির রোল পরে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘লাভও হয়েছে। বাংলার মানুষ দেখতে পেয়েছে শেখ হাসিনা কতটা দৃঢ়চিত্ত। শেখ হাসিনার আত্মমর্যাদাবোধ কতটা সেটাও প্রমাণ হয়েছে। আজ আমরা বলতে পারছি নিজের পায়ে আমরা পদ্মাসেতু করতে পারছি। এটা কার জন্য? এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার জন্য।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ঋণেরভারে আমরা কুঁজো হয়ে যেতাম। কিন্তু আজ ঋণ ছাড়াই আমরা পদ্মাসেতু করতে পারছি।’

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন গাজায় শিশুদের লক্ষ্য করে ‘গণহত্যা’ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল

বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব: সংসদে আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক,
পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের ভুয়া অভিযোগ তুলে প্রকল্পটি পিছিয়ে দেয়ার ঘটনায় বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব বলে সংসদে বলেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, এই ব্যবস্থা যেমন বাংলাদেশে নেয়া যাবে, তেমনি বিদেশেও নেয়া যায়।

রবিবার জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অন্যায় অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক যে মর্যাদাহানির চেষ্টা করেছে, সে জন্য তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মাফ চাইতে হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সেতু প্রকল্প পদ্মাসেতুতে দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে তোলপাড় হয়েছে। ২০১০ সালেই ওই সেতুর পরামর্শক নিয়োগে ঘুষ দেয়ার চক্রান্তের অভিযোগ আনে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ সরকার বরাবর এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও সে সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসনের বিরুদ্ধে মামলার দাবি জানায় বিশ্বব্যাংক।

একবার পদ্মাসেতুকে প্রতিশ্রুত ১২০ কোটি ডলার ঋণ স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে পরে আবার ফিরে আসে। এরপর তাদের শর্ত মেনে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে দুদক। আর সাত জনের বিরুদ্ধে মামলাও করে সংস্থাটি। কিন্তু আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে কিছু পাওয়া যায়নি জানিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে রাজি হয়নি বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

তবে বিশ্বব্যাংক এটা মেনে নিতে না পেরে ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই অর্থায়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। তারা সরে যাওয়ার পর জাইকা, এডিবি ও আইডিবিও সরকারের সঙ্গে ঋণচুক্তি বাতিল করে। এতে পদ্মাসেতু প্রকল্পটিই হুমকিতে পড়ে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ অর্থায়নে সেতু বানানোর সিদ্ধান্ত নেন। এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরেই সেতুটি চালু হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে এই ঘুষ চক্রান্ত নিয়ে কানাডার আদালতে চলা মামলার রায় প্রকাশ হয় স্থানীয় সময় শুক্রবার। এতে বিচারক বিশ্বব্যাংকের অভিযোগকে গালগপ্প ও উড়োকথা বলে বর্ণনা করে সব আসামিকে খালাস দেন।

আইনমন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘আজকে মর্যাদা পুনরুদ্ধার হয়েছে। পুনরুদ্ধার মানে কি, মানে সেদিন নষ্ট হয়েছিল। এই নষ্টের কারণ বিশ্বব্যাংক। আজ আমি এই সংসদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলতে চাই, এর জন্য বিশ্বব্যাংককে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মাফ চাইতে হবে।’

এর মধ্যে পদ্মাসেতুর কাজ অনেকটা এগিয়ে গেলেও অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের টালবাহানায় তা পিছিয়ে যায় পাঁচ বছর। কানাডা আদালতের রায় প্রকাশের পর বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক সংস্থাটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায় কি? বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, সংস্থাটিকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায় না।

তবে আইনমন্ত্রী বলছেন, বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া যায়। তিনি বলেন, ‘যারা এই মামলার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা যদি কোনো আইনজীবীর কাছে যান তারা নিশ্চয় এই পরামর্শ দেবেন, এর জন্য আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায়। এখন প্রশ্ন হলো অধিক্ষেত্রটা কোথায় হবে? সেটাও আইনজীবীরা বলে দেবেন। সেটা এখানেও হবে, ওখানেও হবে, আমি বলে দিলাম। বিনা পয়সায় এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’

আইনমন্ত্রী এই বক্তব্য দেয়ার পর সংসদে হাসির রোল পরে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘লাভও হয়েছে। বাংলার মানুষ দেখতে পেয়েছে শেখ হাসিনা কতটা দৃঢ়চিত্ত। শেখ হাসিনার আত্মমর্যাদাবোধ কতটা সেটাও প্রমাণ হয়েছে। আজ আমরা বলতে পারছি নিজের পায়ে আমরা পদ্মাসেতু করতে পারছি। এটা কার জন্য? এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার জন্য।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ঋণেরভারে আমরা কুঁজো হয়ে যেতাম। কিন্তু আজ ঋণ ছাড়াই আমরা পদ্মাসেতু করতে পারছি।’