উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে কমছে সঞ্চয় দেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত রয়েছে। তবে সে অনুপাতে মানুষের আয় বাড়েনি। ফলে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন কেনাকাটায় কাটছাঁট করছেন।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রান্তিক মানুষের সঞ্চয়ে। বর্তমানে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ২৬.৬৪ শতাংশের কোনো সঞ্চয় নেই। অর্থাৎ চারভাগের একভাগ মানুষের হাতে বাড়তি কোনো অর্থ থাকে না।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা আইএনএম পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকল্পের আওতায় ৩৮টি জেলায় এই জরিপ চালানো হয়। এতে সাত হাজারের বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক সঞ্চয় পরিস্থিতির চিত্র জরিপ অনুযায়ী সঞ্চয়ের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে রংপুর বিভাগ। এ বিভাগের ৪৫.৯৪ শতাংশ গ্রামীণ মানুষের কোনো সঞ্চয় নেই।
এছাড়া সঞ্চয় না থাকা মানুষের হার সিলেটে ৩৯.৩৮ শতাংশ। এই হার চট্টগ্রামে ৩০.৬৩ এবং ঢাকায় ২৬.৯২ শতাংশ।
অন্যদিকে খুলনায় ২১.৫৬ ও রাজশাহীতে ১৯.৪ শতাংশ মানুষের সঞ্চয় নেই। পাশাপাশি ময়মনসিংহে ১৩.৩৩ এবং বরিশালে ১০.৬৩ শতাংশ মানুষ সঞ্চয়হীন।
সঞ্চয় না থাকার প্রধান কারণ প্রায় ৭৭ শতাংশ মানুষ জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়কে প্রধান কারণ বলেছেন। ফলে তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতেই সব টাকা শেষ হয়।
এছাড়া ৩২ শতাংশ মানুষ অনিয়মিত আয়কে দায়ী করেছেন। পাশাপাশি ২২ শতাংশ অপর্যাপ্ত আয় এবং ১৫ শতাংশ দেনা পরিশোধকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন।
সংস্থার গবেষণা ফেলো ড. ফারহানা নার্গিস কিছু বাধার কথা জানান। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও নিম্ন সাক্ষরতার কারণে আনুষ্ঠানিক সঞ্চয় কমে যাচ্ছে।
ব্যাংকিং সেবার প্রসার ও সচেতনতা গ্রামীণ মানুষকে আর্থিক সেবায় ফেরাতে স্থানীয় প্রতিনিধি ও এনজিওদের কাজে লাগানো যায়। এতে কমিউনিটিভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোগ নিতে পারে। অনগ্রসর এলাকায় ব্যাংক শাখা ও উপশাখা বাড়াতে প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন।
সঞ্চয় না থাকলে আকস্মিক বিপদে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। ফলে মানুষ দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সংকটে পড়ে।
বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতামত সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, চার বছর ধরে অর্থনীতি চাপে রয়েছে। ফলে মজুরি না বাড়ায় সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাতে হচ্ছে।
গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য ব্যয়ের চাপ অনেক বেশি। অধিকাংশ পরিবার আয়ের অর্ধেক টাকা খাবারের পেছনে খরচ করে।
পরিস্থিতি সামলাতে আয়ের উৎস বহুমুখী করা জরুরি। প্রথাগত কৃষির বাইরে ক্ষুদ্র শিল্প ও কারিগরি প্রশিক্ষণে জোর দিতে হবে।
























