ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে মার্কিন হামলা: চার দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা আঘাত

ইরানে মার্কিন হামলা: চার দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা আঘাত

ইরানে আবারও নতুন করে আক্রমণ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার রাতে চালানো এই মার্কিন হামলায় একজন শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান।

বিভিন্ন অঞ্চলে আমেরিকার বড় ধরনের আঘাত

ইরানের সিরিক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। দেশটির জাস্ক, কোনারাক ও বন্দর লেঙ্গেহ শহরেও বিমান হামলা চালানো হয়। এছাড়া জিরোফতের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপের কাছে একাধিক বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানায়, ইরানের দুটি তেলবাহী জাহাজেও আক্রমণ করেছে মার্কিন বাহিনী। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটানোর জবাবেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি আমেরিকার।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানি বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অভিযান চালিয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার ও যোগাযোগ অবকাঠামো ধ্বংস করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

চার দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা জবাব

যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় তেহরান। জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টাধাওয়া শুরু করে তারা।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তাদের দাবি, এতে বেশ কয়েকটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং কিছু সেনা হতাহত হয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন এ দাবি অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে জর্ডান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশে থাকা অবস্থাতেই ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। বাকি ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নির্জন এলাকায় পড়েছে। ফলে সেখানে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ

ইরাকের এরবিলে অবস্থিত মার্কিন কেন্দ্রে ড্রোন দিয়ে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তেহরানের দাবি, এতে নজরদারি সরঞ্জাম ধ্বংসের পাশাপাশি কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে। আকাশেই ড্রোন বিস্ফোরণের কারণে দেশজুড়ে বিকট শব্দ শোনা যায়।

এর পাশাপাশি বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন আক্রমণ চালিয়েছে তেহরান। ইরানি বাহিনীর দাবি, ‘অপারেশন থান্ডার’ অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন সেনাদের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আঘাত হানা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উৎসবমুখর আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন

ইরানে মার্কিন হামলা: চার দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা আঘাত

আপডেট সময় : ০১:০৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানে আবারও নতুন করে আক্রমণ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার রাতে চালানো এই মার্কিন হামলায় একজন শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান।

বিভিন্ন অঞ্চলে আমেরিকার বড় ধরনের আঘাত

ইরানের সিরিক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। দেশটির জাস্ক, কোনারাক ও বন্দর লেঙ্গেহ শহরেও বিমান হামলা চালানো হয়। এছাড়া জিরোফতের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপের কাছে একাধিক বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানায়, ইরানের দুটি তেলবাহী জাহাজেও আক্রমণ করেছে মার্কিন বাহিনী। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটানোর জবাবেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি আমেরিকার।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানি বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অভিযান চালিয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার ও যোগাযোগ অবকাঠামো ধ্বংস করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

চার দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা জবাব

যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় তেহরান। জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টাধাওয়া শুরু করে তারা।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তাদের দাবি, এতে বেশ কয়েকটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং কিছু সেনা হতাহত হয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন এ দাবি অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে জর্ডান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশে থাকা অবস্থাতেই ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। বাকি ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নির্জন এলাকায় পড়েছে। ফলে সেখানে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ

ইরাকের এরবিলে অবস্থিত মার্কিন কেন্দ্রে ড্রোন দিয়ে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তেহরানের দাবি, এতে নজরদারি সরঞ্জাম ধ্বংসের পাশাপাশি কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে। আকাশেই ড্রোন বিস্ফোরণের কারণে দেশজুড়ে বিকট শব্দ শোনা যায়।

এর পাশাপাশি বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন আক্রমণ চালিয়েছে তেহরান। ইরানি বাহিনীর দাবি, ‘অপারেশন থান্ডার’ অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন সেনাদের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আঘাত হানা হয়েছে।