ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রী-এমপিদের অনুপস্থিতি, সংসদের কার্যক্রমে ছন্দপতন

মন্ত্রী-এমপিদের অনুপস্থিতি, সংসদের কার্যক্রমে ছন্দপতন

জাতীয় সংসদে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের দেরিতে উপস্থিতির কারণে অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ছন্দপতন ঘটেছে। গতকাল সোমবার নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রী ও নোটিশ উত্থাপনকারী সদস্য উপস্থিত না থাকায় জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি-৭১) নোটিশ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হয়। পরে তারা উপস্থিত হলে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা স্থগিত রেখে নোটিশগুলো নিষ্পত্তি করা হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে অধিবেশন শুরু না হওয়া নিয়েও সংসদে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এক এমপি।

গতকাল দিনের কার্যসূচির শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এরপর জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য গৃহীত তিনটি নোটিশ আলোচনার তালিকায় ছিল। এর মধ্যে একটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, একটি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর এবং অন্যটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আনা হয়। প্রথম নোটিশটি উত্থাপন করেন বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। তবে তাকে নোটিশ পাঠের আহ্বান জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানতে চান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী উপস্থিত আছেন কি না। মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়।

পরবর্তী নোটিশ উত্থাপনকারীকেও অপেক্ষা করতে বলা হয়, কারণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তখনও কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। তৃতীয় নোটিশটি তাৎক্ষণিকভাবে উত্থাপন না করে স্পিকার প্রথমে সব নোটিশ স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। পরে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলকে নোটিশ উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হলেও তিনি তখন উপস্থিত না থাকায় সেটিও উত্থাপিত হয়নি।

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং জামায়াতের সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা শুরু হলেও একাধিক সদস্যের অনুপস্থিতির কারণে সেটিও বিঘ্নিত হয়।

পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উপস্থিত হলে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পর রাষ্ট্রপতির ভাষণের আলোচনা স্থগিত রেখে নোটিশগুলো নিষ্পত্তি করা হয়। এদিকে অনুপস্থিতির অভিযোগের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিনি শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন, বরং নোটিশ উত্থাপনকারী সদস্যই অনুপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান যশোরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীসহ সরকারি দলের অনেক সদস্যও অধিবেশনে যোগ দেননি। নির্ধারিত সময় বেলা ৩টায় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক মিনিট বিলম্বে তা শুরু হয়।

অধিবেশন দেরিতে শুরু হওয়া নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন জামায়াতের এমপি মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের বিলম্ব হলে তা আগেই জানানো উচিত। উপস্থিতির ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আগের দিনই বেলা ৩টায় অধিবেশন বসার সময় ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু সদস্যদের দেরিতে উপস্থিতির কারণে বিলম্ব হয়েছে। তিনি সদস্যদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আগের দিন সংসদীয় দলের বৈঠক ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে এবং এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে সময়মতো অধিবেশন শুরু করতে সবাই সচেষ্ট থাকবেন বলেও জানান তিনি। শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্মরণ করিয়ে দেন, সংসদের কার্যক্রম যেকোনো সরকারি কার্যক্রমের তুলনায় অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা।

মন্ত্রী-এমপিদের অনুপস্থিতি, সংসদের কার্যক্রমে ছন্দপতন

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের দেরিতে উপস্থিতির কারণে অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ছন্দপতন ঘটেছে। গতকাল সোমবার নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রী ও নোটিশ উত্থাপনকারী সদস্য উপস্থিত না থাকায় জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি-৭১) নোটিশ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হয়। পরে তারা উপস্থিত হলে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা স্থগিত রেখে নোটিশগুলো নিষ্পত্তি করা হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে অধিবেশন শুরু না হওয়া নিয়েও সংসদে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এক এমপি।

গতকাল দিনের কার্যসূচির শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এরপর জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য গৃহীত তিনটি নোটিশ আলোচনার তালিকায় ছিল। এর মধ্যে একটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, একটি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর এবং অন্যটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আনা হয়। প্রথম নোটিশটি উত্থাপন করেন বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। তবে তাকে নোটিশ পাঠের আহ্বান জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানতে চান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী উপস্থিত আছেন কি না। মন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়।

পরবর্তী নোটিশ উত্থাপনকারীকেও অপেক্ষা করতে বলা হয়, কারণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তখনও কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। তৃতীয় নোটিশটি তাৎক্ষণিকভাবে উত্থাপন না করে স্পিকার প্রথমে সব নোটিশ স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। পরে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলকে নোটিশ উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হলেও তিনি তখন উপস্থিত না থাকায় সেটিও উত্থাপিত হয়নি।

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং জামায়াতের সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা শুরু হলেও একাধিক সদস্যের অনুপস্থিতির কারণে সেটিও বিঘ্নিত হয়।

পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উপস্থিত হলে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পর রাষ্ট্রপতির ভাষণের আলোচনা স্থগিত রেখে নোটিশগুলো নিষ্পত্তি করা হয়। এদিকে অনুপস্থিতির অভিযোগের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিনি শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন, বরং নোটিশ উত্থাপনকারী সদস্যই অনুপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান যশোরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীসহ সরকারি দলের অনেক সদস্যও অধিবেশনে যোগ দেননি। নির্ধারিত সময় বেলা ৩টায় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক মিনিট বিলম্বে তা শুরু হয়।

অধিবেশন দেরিতে শুরু হওয়া নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন জামায়াতের এমপি মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের বিলম্ব হলে তা আগেই জানানো উচিত। উপস্থিতির ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আগের দিনই বেলা ৩টায় অধিবেশন বসার সময় ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু সদস্যদের দেরিতে উপস্থিতির কারণে বিলম্ব হয়েছে। তিনি সদস্যদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আগের দিন সংসদীয় দলের বৈঠক ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে এবং এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে সময়মতো অধিবেশন শুরু করতে সবাই সচেষ্ট থাকবেন বলেও জানান তিনি। শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্মরণ করিয়ে দেন, সংসদের কার্যক্রম যেকোনো সরকারি কার্যক্রমের তুলনায় অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা।