হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত দেড় মাসে ২৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শহরাঞ্চল ছাড়িয়ে হামের আক্রান্তের হার গ্রামে বাড়ছে; পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গতকাল সোমবার হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সারা দেশে আরও ১ হাজার ৩৫৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদিকে, শিশুদের দ্রুত হামের টিকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশু ও হাম আক্রান্ত শনাক্ত হওয়া আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম শনাক্ত হওয়া শিশুটি সিলেটে মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে একটি করে শিশু মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ২২০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৪৪ শিশু। একই সময় হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৩৩ হাজার ৩৮৬ শিশুর। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২২ হাজার ৪৪২ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১৯ হাজার ১৮ শিশু বাড়ি ফিরেছে। হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১০৩ শিশুর মৃত্যু হয় ঢাকায়; আর ৬৯ শিশু মারা গেছে রাজশাহী বিভাগে।
জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকাদানের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে আট বিভাগে গতকাল পর্যন্ত ৮৪ লাখ ২২ হাজার ৭৩০ শিশু টিকা পেয়েছে।
এদিকে, সারা দেশে শিশুদের দ্রুত হামের টিকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে হামের টিকা দিতে ব্যর্থতায় যে কমিটি হয়েছে, তারা কী কাজ করছে ২ সপ্তাহ পর তার প্রতিবেদন দেখবেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে দেশে হামের কারণে ৪৭ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সেই সঙ্গে হামের প্রকোপ না কমা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়। ২ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করা হয়।
রিটে বলা হয়, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার প্রাপ্যতা বজায় রাখতে না পারা, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও জরুরি সাড়া দেওয়ার ঘাটতি সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
রিটকারী সংশ্লিষ্ট আইনজীবী পূর্ণিমা জাহান বলেন, রিটের বিষয়ে ২০ এপ্রিল দিন ধার্য থাকলেও ওইদিন শুনানি হয়নি। কিন্তু তার একদিন পর গত ২১ এপ্রিল শুনানি নিয়ে আদেশের জন্য ২৬ এপ্রিল দিন ঠিক করেন হাইকোর্ট। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার রুল জারি করেন আদালত।



























