নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি আবাসিক বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজন গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের সূত্রমতে, দগ্ধদের মধ্যে মা ও মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চানপুর এলাকায় আক্তার হোসেন মিয়ার ভাড়া বাড়িতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চানপুর এলাকার আক্তার হোসেনের একতলা বাড়িটিতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন মান্নান মিয়া নামের এক ব্যক্তি। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের বাসার এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হচ্ছিল, যা পুরো রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার সকালে মান্নান মিয়ার স্ত্রী সুলতানা বেগম রান্নাঘরের জানালা-কদরজা না খুলেই অসাবধানতাবশত চুলার আগুন জ্বালাতে যান। দেশলাই বা লাইটার জ্বালাতেই ঘরে জমে থাকা গ্যাসে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
দগ্ধদের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের চারজন এবং তাদের এক প্রতিবেশী শিশু দগ্ধ হয়। আহতরা হলেন:
-
মান্নান (৫০) — ঘরের প্রধান ভাড়াটিয়া
-
সুলতানা বেগম (৩৫) — মান্নানের স্ত্রী (অবস্থা আশঙ্কাজনক)
-
মিম (১১) — মান্নানের মেয়ে (অবস্থা আশঙ্কাজনক)
-
সিয়াম (৯) — মান্নানের ছেলে
-
হযরত আলী (১০) — প্রতিবেশী শিশু
বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট তথা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, চিকিৎসাধীন মা সুলতানা বেগম ও শিশু মিমের শারীরিক অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। তবে তারা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। পরবর্তীতে ধামগড় পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে।

























