রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং সাফাই সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। তবে শুনানি শেষে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া (লিগ্যাল এইড) আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহর একটি মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) আদালতের শুনানি শেষে আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ সাংবাদিকদের বলেন, আসামি সোহেল রানার দেওয়া বক্তব্যকে ‘দোষ স্বীকারই বলা যায়’। আসামিপক্ষের নিজের আইনজীবীর মুখ থেকে এমন মন্তব্য আসায় মামলাটি এখন এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে, যা আগামীকালের চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের আগে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালত আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন।
শুনানির শুরুতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত করা, ঘরের ভেতরে রক্তের আলামত এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়টিও আদালতে তুলে ধরা হয়।
পরে আদালত আসামিদের কাছে সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও এবং আলামত সম্পর্কে ব্যাখ্যা জানতে চান। পুরো কার্যক্রমটি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারার আওতায় আসামি পরীক্ষার অংশ হিসেবে সম্পন্ন হয়।
আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। স্যার, আমাকে মাফ করে দিন।’
তিনি বলেন, ‘ডলারকে ধরেন। আমি অপরাধ করেছি। তাকেও ধরেন।’ একপর্যায়ে তাকে নিজের সন্তানের কথা উল্লেখ করে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলতে শোনা যায়।
অন্য আসামি স্বপ্না আক্তারও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। শুনানির পুরো সময় সোহেল রানাকে বিচারকের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট ছিল। তবে স্বপ্না আক্তারের ক্ষেত্রে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট খোলা অবস্থায় রাখা হয়।
আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, ‘আমি সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত স্টেট ডিফেন্স ল’য়ার হিসেবে এ মামলায় দায়িত্ব পালন করছি। আজকের কার্যক্রম ছিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারার আসামি পরীক্ষা, যা রায় ও যুক্তিতর্কের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আজ সেই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালত আগামীকাল মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন।’
সোহেল রানার বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসামি সোহেল রানা বিজ্ঞ আদালতে বলেছেন, ‘মাননীয় আদালত আমি ভুল করেছি, আমাকে মাফ করেন।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটাকে দোষ স্বীকারই বলা যায়। আপনারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন, আমিও ছিলাম। আপনারা যা শুনেছেন, আমিও তাই শুনেছি।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটি বর্তমানে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর্যায়ে রয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের তারিখ নির্ধারণ করবেন।

























