যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স পর্বত’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
পিকঅ্যাক্স পর্বত আসলে কী?
পাহাড়ের গভীরে লুকানো এই স্থাপনাটিকে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক-পারমাণবিক কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। মাটির অনেক নিচে এখানে দুটি বিশাল সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স আছে। শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমা দিয়েও এটি ধ্বংস করা কঠিন বলে ধারণা করা হয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কয়েকশ মিটার গভীরে শক্ত গ্রানাইট পাথরের নিচে এই স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সন্দেহ
আল-মনিটরসহ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এখানে গোপনে উন্নত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালাচ্ছে বলে ওয়াশিংটনের সন্দেহ রয়েছে। ফলে এটি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির একটি ‘কৌশলগত ব্যাকআপ’ হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে ইরান সরকার শুরু থেকেই ভিন্ন দাবি করে আসছে। ২০২০ সালে নির্মাণ শুরুর পর থেকে তারা বলছে, এই স্থাপনা শুধু উন্নত সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন ও উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই বলেও জানিয়েছে তেহরান।
ট্রাম্পের সরাসরি হুঁশিয়ারি
দ্য হিউ হিউইট শোতে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, তারা পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেবেন এবং ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।
এছাড়া তিনি জানান, এলাকাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক অবস্থান তেমন সুবিধাজনক নয়। তিনি আরও বলেন, সন্দেহজনক তথ্য পেলেই তা ধ্বংস করা হয়, তাই ইরান এ নিয়ে বেশি কথা বলতে চায় না। উপরন্তু, খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্স পর্বতে হামলা চালানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।























