দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। তবে দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইন ও বিধি মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কর্মদিবসে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বক্তব্য দেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।
অতীতের ব্যর্থতা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
মঈন খান বলেন, গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার কারণে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
পাশাপাশি সরকারি সেবা যেন কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। এছাড়া মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করে এর পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
দেশে প্রায় ৫০টি মন্ত্রণালয় থাকলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাজ ভিন্ন প্রকৃতির। কারণ এই মন্ত্রণালয় সরাসরি জনগণের সঙ্গে কাজ করে। তাই এটি সঠিকভাবে পরিচালিত হলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাও কার্যকর হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণের ক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে বক্তব্য
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকার ক্ষমতাশালী হলেও এই ক্ষমতা সরকারের নিজস্ব নয়। বরং জনগণই ক্ষমতার প্রকৃত উৎস। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যাদের ক্ষমতায় পাঠায়, তারাই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান।
তিনি আরও বলেন, সচ্ছল মানুষ নিজেদের প্রয়োজন নিজেরাই মেটাতে পারেন। কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠী সরকারি সহায়তার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই তাদের অধিকার নিশ্চিত করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
দরিদ্র মানুষের জন্য নতুন উদ্যোগ
ড. আবদুল মঈন খান জানান, বাংলাদেশে এখনো অনেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনায় তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে অতীতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগও তোলেন মন্ত্রী। তার দাবি অনুযায়ী, তখন বিচারকরা স্বাধীনভাবে রায় লেখার সুযোগ পেতেন না। বরং মন্ত্রণালয় থেকেই রায় লিখে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সেবামুখী প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রত্যয়
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জনগণের কাছে কার্যকরভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চান বলে জানান মন্ত্রী। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
নিজের দায়িত্বকে গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের পাশে থেকে এবং প্রতিমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি দেশের সেবা করতে চান।




















