নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৫৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৫৮ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সড়কে ভৌগোলিক জালিয়াতিরও প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিরুদ্ধে।
নকশায় ছিল ৫৫০ মিটার, বাস্তবে বাদ ৫০ মিটার
‘নওগাঁ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় এই কাজ শুরু হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গেজেটভুক্ত হওয়া প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছিল ৫৫০ মিটার। প্রস্থ প্রায় ৩ মিটার। মিঠাপুর পুরাতন হাটখোলা থেকে উজালপুর গ্রাম পর্যন্ত পুরো রাস্তার নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
তবে কাজ শুরুর পর দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সবুজসাথী ট্রেডার্স কাজ শুরু করলে সড়কের শেষ প্রান্তের প্রায় ৫০ মিটার অংশ কাঁচা রেখে দেওয়া হয়। অথচ একই বরাদ্দ ও আইডির অধীনে পুরো সড়কের নকশা অনুমোদিত ছিল। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
দুর্ভোগে পড়বেন গ্রামবাসী
গ্রামের বাসিন্দা প্রণব মন্ডল জানান, রাস্তার এই অংশ বাদ পড়লে চলাচলে সমস্যা হবে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁচা অংশে কাদা-পানি জমে যাবে। এতে যানবাহন ও মানুষ চলাচলে দুর্ভোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সচেতন মহলের ধারণা, এই ৫০ মিটার অংশ ইচ্ছাকৃতভাবেই বাদ রাখা হয়েছে। কারণ পরবর্তীতে নতুন প্রকল্প দেখিয়ে ফের সরকারি বরাদ্দ আদায়ের সুযোগ তৈরি করতেই এই কৌশল নেওয়া হতে পারে।
দৈর্ঘ্য কমানোর পাশাপাশি নথিপত্রেও কারচুপির প্রমাণ মিলেছে। সরকারি নথিতে সড়কের শেষ সীমানা হিসেবে লেখা হয়েছে ‘জগপাড়া’। কিন্তু বাস্তবে ওই এলাকায় জগপাড়া নামে কোনো স্থানের অস্তিত্ব নেই। প্রকৃতপক্ষে গ্রামটির নাম ‘উজালপুর’। এই নাম পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বক্তব্য
ঠিকাদার জিল্লুর রহমান মারুফ বলেন, এস্টিমেটে ৫৫০ মিটারই উল্লেখ আছে। তবে সামান্য অংশ বাদ পড়ার বিষয়টি তিনি জানেন বলে স্বীকার করেন। এটি টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও আসেনি বলে জানান তিনি। এছাড়া একজন ব্যক্তি তার জমির উপর দিয়ে রাস্তা যাওয়ার অভিযোগ তোলায় কাজে দেরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে বদলগাছী উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো: শাহারিয়ার বলেন, ভবিষ্যতে সংশোধনের চিঠি এলে অন্য প্রকল্প থেকে বাকি অংশের কাজ করা সম্ভব। তবে শুরুতে কেন এই অংশ বাদ রাখা হয়েছিল, তা তার জানা নেই। গ্রামের নাম সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কাগজপত্র দেখে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানান।
নওগাঁ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো: মুনসুর আলী বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

















