ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক ইলিশের দাম ১০ হাজার টাকা

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ৩ কেজি ওজনের একটি রুপালি ইলিশ। 

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাটের এনায়েত মৎস্য আড়তে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে মাছটি ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. বেলাল হোসেন সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইলিশটি কিনে নেন।

জানা গেছে, হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মিলন হোসেন নয়জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে ‘মায়ের দোয়া’ নামের ট্রলারে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যান। টানা ছয় দিন সাগরে জাল ফেলার পর অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই ইলিশটি তাদের জালে ধরা পড়ে।

শনিবার ভোরে ট্রলারটি চেয়ারম্যান ঘাটে ভেড়ে। পরে মাছটি বিক্রির জন্য ঘাটের ‘এনায়েত মৎস্য আড়তে’ তোলা হলে উৎসুক জনতা ও পাইকারদের মধ্যে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়। শুরু হয় নিলামে দর হাঁকাহাঁকি। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকায় মাছটির বিক্রি চূড়ান্ত হয়।

ট্রলারের মাঝি মো. মিলন হোসেন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নয়জন মাল্লা নিয়ে ছয় দিন সাগরে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়েছি। জালে ৩ কেজি ওজনের বড় ইলিশ ওঠায় আমরা সবাই আনন্দিত। ঘাটে এনে প্রত্যাশিত দাম পাওয়ায় শ্রম স্বার্থক মনে হচ্ছে।

এনায়েত মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী এনায়েত হোসেন জানান, সকালে মাছটি আড়তে আনার সঙ্গে সঙ্গেই পাইকার ও স্থানীয় ক্রেতাদের ভিড় জমে যায়। ডাক শুরু হলে ব্যবসায়ীদের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি হয়।

হাতিয়া মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. শাহেদ হোসেন বলেন, বঙ্গোপসাগরে বড় ইলিশ মাঝেমধ্যে ধরা পড়লেও ৩ কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ সচরাচর মেলে না। বাজারে বড় আকারের রূপালি ইলিশের আলাদা কদর ও চাহিদা রয়েছে, যে কারণে নিলামে কাঙ্ক্ষিত দর উঠেছে।

নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, বঙ্গোপসাগরে বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়া জেলেদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ক।

তিনি আরও বলেন, ইলিশের টেকসই প্রজনন ও উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা, নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ না ধরা এবং কোনোভাবেই জাটকা নিধন না করার ওপর জেলেদের বিশেষ নজর রাখতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নদী দখলদার ও দূষনকারীদের তালিকা প্রকাশ, শাস্তি দাবি

এক ইলিশের দাম ১০ হাজার টাকা

আপডেট সময় : ০৪:০৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ৩ কেজি ওজনের একটি রুপালি ইলিশ। 

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাটের এনায়েত মৎস্য আড়তে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে মাছটি ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. বেলাল হোসেন সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইলিশটি কিনে নেন।

জানা গেছে, হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মিলন হোসেন নয়জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে ‘মায়ের দোয়া’ নামের ট্রলারে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যান। টানা ছয় দিন সাগরে জাল ফেলার পর অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই ইলিশটি তাদের জালে ধরা পড়ে।

শনিবার ভোরে ট্রলারটি চেয়ারম্যান ঘাটে ভেড়ে। পরে মাছটি বিক্রির জন্য ঘাটের ‘এনায়েত মৎস্য আড়তে’ তোলা হলে উৎসুক জনতা ও পাইকারদের মধ্যে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়। শুরু হয় নিলামে দর হাঁকাহাঁকি। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকায় মাছটির বিক্রি চূড়ান্ত হয়।

ট্রলারের মাঝি মো. মিলন হোসেন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নয়জন মাল্লা নিয়ে ছয় দিন সাগরে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়েছি। জালে ৩ কেজি ওজনের বড় ইলিশ ওঠায় আমরা সবাই আনন্দিত। ঘাটে এনে প্রত্যাশিত দাম পাওয়ায় শ্রম স্বার্থক মনে হচ্ছে।

এনায়েত মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী এনায়েত হোসেন জানান, সকালে মাছটি আড়তে আনার সঙ্গে সঙ্গেই পাইকার ও স্থানীয় ক্রেতাদের ভিড় জমে যায়। ডাক শুরু হলে ব্যবসায়ীদের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি হয়।

হাতিয়া মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. শাহেদ হোসেন বলেন, বঙ্গোপসাগরে বড় ইলিশ মাঝেমধ্যে ধরা পড়লেও ৩ কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ সচরাচর মেলে না। বাজারে বড় আকারের রূপালি ইলিশের আলাদা কদর ও চাহিদা রয়েছে, যে কারণে নিলামে কাঙ্ক্ষিত দর উঠেছে।

নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, বঙ্গোপসাগরে বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়া জেলেদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ক।

তিনি আরও বলেন, ইলিশের টেকসই প্রজনন ও উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা, নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ না ধরা এবং কোনোভাবেই জাটকা নিধন না করার ওপর জেলেদের বিশেষ নজর রাখতে হবে।