ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীর মাটিচাপা লাশ উদ্ধার, সাবেক স্বামীকে আটকের বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর নাজু আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মাটিচাপা থাকা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহত নাজুর ভাই মো. শুভ বাদী হয়ে সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঢুকিয়ালি নদের পাড় থেকে মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজের পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলে নাজুর সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে (৪০) আটক করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে নাজুকে হত্যার পর নদের পাড়ে মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন নুরুল। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছয়দিন পর নাজুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে নাজু আক্তার ও নুরুল আমিনের বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। আড়াই বছর আগে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর তাদের মধ্যে দুদফায় বিবাহবিচ্ছেদ হয়। দেনমোহর বাবদ নুরুল দুই দফায় দুই লাখ টাকা পরিশোধ করেন। পরে নাজু তার বিরুদ্ধে খোরপোশ ও ধর্ষণের মামলা করেন। মামলা মীমাংসার জন্য নাজু পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খেতের জন্য কীটনাশক কিনতে জেলা শহরে গেলে নাজুর সঙ্গে নুরুলের দেখা হয়। টাকা চাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মোবাইল ফোন নিয়ে টানাহেঁচড়া হয়। স্থানীয় লোকজন তাদের নিবৃত্ত করে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। পরে টাকা দেওয়ার কথা বলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে নাজুকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা হন নুরুল।

পুলিশ জানায়, বাড়ির কাছাকাছি খাটপুড়া সেতুর কাছে ফের দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুরুল নাজুর বুকে ঘুসি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে মোটরসাইকেল চালক তাদের সেখানে রেখে চলে যান।

নাজু বাড়িতে না ফেরায় ২২ সেপ্টেম্বর তার ছোট ভাই মো. শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। পরে নুরুল আমিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে নাজুকে হত্যা ও লাশ গুমের বিষয়টি স্বীকার করে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল জানান, নাজু মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। পরে নদের পাড়ে গর্ত করে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটি খুঁড়ে নাজু আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক সাবেক স্বামী নূরুল আমিনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নদী দখলদার ও দূষনকারীদের তালিকা প্রকাশ, শাস্তি দাবি

নারীর মাটিচাপা লাশ উদ্ধার, সাবেক স্বামীকে আটকের বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ০৪:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর নাজু আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মাটিচাপা থাকা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহত নাজুর ভাই মো. শুভ বাদী হয়ে সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঢুকিয়ালি নদের পাড় থেকে মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজের পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলে নাজুর সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে (৪০) আটক করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে নাজুকে হত্যার পর নদের পাড়ে মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন নুরুল। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছয়দিন পর নাজুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে নাজু আক্তার ও নুরুল আমিনের বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। আড়াই বছর আগে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর তাদের মধ্যে দুদফায় বিবাহবিচ্ছেদ হয়। দেনমোহর বাবদ নুরুল দুই দফায় দুই লাখ টাকা পরিশোধ করেন। পরে নাজু তার বিরুদ্ধে খোরপোশ ও ধর্ষণের মামলা করেন। মামলা মীমাংসার জন্য নাজু পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খেতের জন্য কীটনাশক কিনতে জেলা শহরে গেলে নাজুর সঙ্গে নুরুলের দেখা হয়। টাকা চাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মোবাইল ফোন নিয়ে টানাহেঁচড়া হয়। স্থানীয় লোকজন তাদের নিবৃত্ত করে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। পরে টাকা দেওয়ার কথা বলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে নাজুকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা হন নুরুল।

পুলিশ জানায়, বাড়ির কাছাকাছি খাটপুড়া সেতুর কাছে ফের দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুরুল নাজুর বুকে ঘুসি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে মোটরসাইকেল চালক তাদের সেখানে রেখে চলে যান।

নাজু বাড়িতে না ফেরায় ২২ সেপ্টেম্বর তার ছোট ভাই মো. শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। পরে নুরুল আমিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে নাজুকে হত্যা ও লাশ গুমের বিষয়টি স্বীকার করে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল জানান, নাজু মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। পরে নদের পাড়ে গর্ত করে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটি খুঁড়ে নাজু আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক সাবেক স্বামী নূরুল আমিনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।