ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের ধাক্কা কাটিয়ে আগস্টে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি বাড়ল

জুলাইয়ের ধাক্কা কাটিয়ে আগস্টে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি বাড়ল

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে কমলেও আগস্টে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ফলে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট এই দুই মাসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ৯১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৮৮ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের পোশাক। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার ডলার।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৪৩৮ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই গত অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের গড় মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়কে ১২ মাসে ভাগ করলে মাসিক গড় দাঁড়ায় প্রায় ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার।

অর্থাৎ, গত অর্থবছরের মাসিক গড়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গড় আয় বেশি হয়েছে।

তবে প্রথম দুই মাসের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সমানভাবে আসেনি। জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে যায়।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে ৪৫ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের একই মাসে এর পরিমাণ ছিল ৪৬ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে জুলাইয়ে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

তবে আগস্টে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ায়। ওই মাসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ৪৬ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। আগের বছরের আগস্টে রপ্তানি হয়েছিল ৪২ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ফলে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিই মূলত প্রথম দুই মাসের সম্মিলিত রপ্তানিকে ইতিবাচক রেখেছে।

তবে অর্থবছরের শুরুতে মাত্র দুই মাসের তথ্যের ভিত্তিতে পুরো বছরের রপ্তানি প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরবর্তী মাসগুলোতে রপ্তানির ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে জানান মহিউদ্দিন রুবেল।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার যুক্তরাজ্য। দেশটির বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বছরের বাকি সময়ে অর্ডারের প্রবাহ, বৈশ্বিক পোশাকের চাহিদা, ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার ওপর এ বাজারে রপ্তানির ধারাবাহিকতা অনেকটাই নির্ভর করবে।

জুলাইয়ের ধাক্কা কাটিয়ে আগস্টে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি বাড়ল

আপডেট সময় : ১০:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে কমলেও আগস্টে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ফলে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট এই দুই মাসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ৯১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৮৮ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের পোশাক। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ১০ হাজার ডলার।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৪৩৮ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই গত অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের গড় মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়কে ১২ মাসে ভাগ করলে মাসিক গড় দাঁড়ায় প্রায় ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার।

অর্থাৎ, গত অর্থবছরের মাসিক গড়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গড় আয় বেশি হয়েছে।

তবে প্রথম দুই মাসের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সমানভাবে আসেনি। জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে যায়।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে ৪৫ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের একই মাসে এর পরিমাণ ছিল ৪৬ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে জুলাইয়ে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

তবে আগস্টে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ায়। ওই মাসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ৪৬ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। আগের বছরের আগস্টে রপ্তানি হয়েছিল ৪২ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ফলে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিই মূলত প্রথম দুই মাসের সম্মিলিত রপ্তানিকে ইতিবাচক রেখেছে।

তবে অর্থবছরের শুরুতে মাত্র দুই মাসের তথ্যের ভিত্তিতে পুরো বছরের রপ্তানি প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরবর্তী মাসগুলোতে রপ্তানির ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে জানান মহিউদ্দিন রুবেল।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার যুক্তরাজ্য। দেশটির বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বছরের বাকি সময়ে অর্ডারের প্রবাহ, বৈশ্বিক পোশাকের চাহিদা, ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার ওপর এ বাজারে রপ্তানির ধারাবাহিকতা অনেকটাই নির্ভর করবে।