ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ডায়ালাইসিস বন্ধের শঙ্কা, সংকটে পৌনে তিনশত রোগী

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ডায়ালাইসিস বন্ধের শঙ্কা, সংকটে পৌনে তিনশত রোগী

চুক্তির ১০ বছর পূর্ণ হওয়ায় আগামী ২৯ নভেম্বর বন্ধ হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ‘স্যান্ডোর কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার’-এর কার্যক্রম। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডোর পরিচালিত এ কেন্দ্রটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে নিয়মিত সেবা নেওয়া ২৭৬ জন কিডনি রোগী মারাত্মক জীবনঝুঁকির মুখে পড়বেন।

সেন্টারটিতে বর্তমানে সেবা নিচ্ছেন ১৮১ জন হেপাটাইটিস নেগেটিভ এবং ৯৫ জন পজিটিভ রোগী। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে সংক্রামক পজিটিভ রোগীদের ডায়ালাইসিস সুবিধা দেওয়ার মতো বিকল্প কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ার খবরে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এছাড়া কেন্দ্রটির কার্যক্রম গুটিয়ে নিলে সেখানে কর্মরত ৪৫ জন অভিজ্ঞ কর্মীও কর্মহীন হয়ে পড়বেন।

স্যান্ডোরের সহকারী ব্যবস্থাপক তায়েফ রহমান জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে এলেও ২৯ নভেম্বরের পর কেন্দ্রটি কীভাবে চলবে বা আদৌ চলবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

তবে সংকট নিরসনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপোর (সিএমএসডি) মাধ্যমে চমেকে ৩১টি এবং ন্যাশনাল কিডনি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৬০টি নতুন ডায়ালাইসিস মেশিন ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি ক্রয় ও নতুন মেশিন স্থাপনের মধ্যবর্তী সময়ে রোগীদের সেবা কীভাবে সচল রাখা যায়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত হতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে বেসরকারি বা বাইরের ক্লিনিকে অতিরিক্ত ব্যয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় নতুন সেটআপ চালু না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান স্যান্ডোর কেন্দ্রটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৪ মার্চ চমেক হাসপাতালের নিচতলায় ৩১টি মেশিন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল স্যান্ডোর ডায়ালাইসিস সেন্টার। বর্তমানে এই সেন্টারের পাশাপাশি চমেকের নিজস্ব ২০টি মেশিনে পৃথকভাবে আরও ৯০ জন রোগী ডায়ালাইসিস সেবা পাচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন পোশাক বাজারে দ্বিতীয় স্থান হারালো বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ডায়ালাইসিস বন্ধের শঙ্কা, সংকটে পৌনে তিনশত রোগী

আপডেট সময় : ১২:৪০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

চুক্তির ১০ বছর পূর্ণ হওয়ায় আগামী ২৯ নভেম্বর বন্ধ হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ‘স্যান্ডোর কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার’-এর কার্যক্রম। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডোর পরিচালিত এ কেন্দ্রটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে নিয়মিত সেবা নেওয়া ২৭৬ জন কিডনি রোগী মারাত্মক জীবনঝুঁকির মুখে পড়বেন।

সেন্টারটিতে বর্তমানে সেবা নিচ্ছেন ১৮১ জন হেপাটাইটিস নেগেটিভ এবং ৯৫ জন পজিটিভ রোগী। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে সংক্রামক পজিটিভ রোগীদের ডায়ালাইসিস সুবিধা দেওয়ার মতো বিকল্প কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ার খবরে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এছাড়া কেন্দ্রটির কার্যক্রম গুটিয়ে নিলে সেখানে কর্মরত ৪৫ জন অভিজ্ঞ কর্মীও কর্মহীন হয়ে পড়বেন।

স্যান্ডোরের সহকারী ব্যবস্থাপক তায়েফ রহমান জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে এলেও ২৯ নভেম্বরের পর কেন্দ্রটি কীভাবে চলবে বা আদৌ চলবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

তবে সংকট নিরসনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপোর (সিএমএসডি) মাধ্যমে চমেকে ৩১টি এবং ন্যাশনাল কিডনি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৬০টি নতুন ডায়ালাইসিস মেশিন ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি ক্রয় ও নতুন মেশিন স্থাপনের মধ্যবর্তী সময়ে রোগীদের সেবা কীভাবে সচল রাখা যায়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত হতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে বেসরকারি বা বাইরের ক্লিনিকে অতিরিক্ত ব্যয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় নতুন সেটআপ চালু না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান স্যান্ডোর কেন্দ্রটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৪ মার্চ চমেক হাসপাতালের নিচতলায় ৩১টি মেশিন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল স্যান্ডোর ডায়ালাইসিস সেন্টার। বর্তমানে এই সেন্টারের পাশাপাশি চমেকের নিজস্ব ২০টি মেশিনে পৃথকভাবে আরও ৯০ জন রোগী ডায়ালাইসিস সেবা পাচ্ছেন।