ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
থাইল্যান্ডে প্রাণঘাতী ভাইরাস

থাইল্যান্ডে প্রাণঘাতী ভাইরাসের, একে একে মারা যাচ্ছে বাঘ

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ৭২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সংক্রমণ ঠেকাতে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত বাঘগুলোর বেশিরভাগই খাঁচায় বন্দি অবস্থায় ছিল। ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় চিড়িয়াখানা গুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে চিড়িয়াখানার কর্মীরা বাঘের খাঁচায় নিয়মিত জীবাণুনাশক স্প্রে করছেন এবং বেঁচে থাকা প্রাণীগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসছেন।

ঠিক কোন ভাইরাসের কারণে এতগুলো বাঘের মৃত্যু হলো, তা নিয়ে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। চিয়াং মাই আঞ্চলিক প্রাণী অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বাঘগুলোর মৃত্যুর পেছনে মূলত ‘ক্যানিন ডিসটেম্পার’ ভাইরাস দায়ী হতে পারে। তবে অনেক প্রাণীবিদের মতে, মৃত বাঘগুলোর দেহে ‘মাইকোপ্লাসমা’র উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, থাই কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ বিভাগের মহাপরিচালক সোমচুয়ান রতনমুঙ্গলাকানন জানিয়েছেন, বাঘগুলো মূলত ‘ফেলিন পেনলিউকোপেনিয়া’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

সোমচুয়ান রতনমুঙ্গলাকানন আরও জানান, অসুস্থ বাঘগুলোকে একদম শেষ মুহূর্তে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিড়াল বা কুকুরের মতো পোষা প্রাণী মানুষের কাছাকাছি থাকে বলে তারা অসুস্থ হলে দ্রুত বোঝা যায় এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়।

কিন্তু বাঘের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। বন্যপ্রাণী হওয়ার কারণে মানুষ তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখে, ফলে বাঘ যখন অসুস্থ হয় তখন তা তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা সম্ভব হয় না। যখন রোগ ধরা পড়ে, ততক্ষণে বাঘটির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

পাঁচ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

থাইল্যান্ডে প্রাণঘাতী ভাইরাস

থাইল্যান্ডে প্রাণঘাতী ভাইরাসের, একে একে মারা যাচ্ছে বাঘ

আপডেট সময় : ১২:৪৯:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ৭২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সংক্রমণ ঠেকাতে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত বাঘগুলোর বেশিরভাগই খাঁচায় বন্দি অবস্থায় ছিল। ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় চিড়িয়াখানা গুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে চিড়িয়াখানার কর্মীরা বাঘের খাঁচায় নিয়মিত জীবাণুনাশক স্প্রে করছেন এবং বেঁচে থাকা প্রাণীগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসছেন।

ঠিক কোন ভাইরাসের কারণে এতগুলো বাঘের মৃত্যু হলো, তা নিয়ে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। চিয়াং মাই আঞ্চলিক প্রাণী অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বাঘগুলোর মৃত্যুর পেছনে মূলত ‘ক্যানিন ডিসটেম্পার’ ভাইরাস দায়ী হতে পারে। তবে অনেক প্রাণীবিদের মতে, মৃত বাঘগুলোর দেহে ‘মাইকোপ্লাসমা’র উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, থাই কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ বিভাগের মহাপরিচালক সোমচুয়ান রতনমুঙ্গলাকানন জানিয়েছেন, বাঘগুলো মূলত ‘ফেলিন পেনলিউকোপেনিয়া’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

সোমচুয়ান রতনমুঙ্গলাকানন আরও জানান, অসুস্থ বাঘগুলোকে একদম শেষ মুহূর্তে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিড়াল বা কুকুরের মতো পোষা প্রাণী মানুষের কাছাকাছি থাকে বলে তারা অসুস্থ হলে দ্রুত বোঝা যায় এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়।

কিন্তু বাঘের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। বন্যপ্রাণী হওয়ার কারণে মানুষ তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখে, ফলে বাঘ যখন অসুস্থ হয় তখন তা তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা সম্ভব হয় না। যখন রোগ ধরা পড়ে, ততক্ষণে বাঘটির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।