ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেট্রোল নেই, অকটেন নেই- পরিস্থিতি ওরকম না : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে—এমন ধারণাকে নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, পেট্রোল বা অকটেন একেবারেই নেই, পরিস্থিতি মোটেও এমন নয়। তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি ও মজুদ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

উপদেষ্টা গত বছরের তুলনায় বর্তমান সময়ের জ্বালানি সরবরাহের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান:

  • অকটেন: ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চে অকটেনের সরবরাহ বেড়েছে। গত বছর সরবরাহ ছিল ৩৬ হাজার ৯৮২ টন, যা এ বছর দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৪৩৯ টনে

  • পেট্রোল: পেট্রোলের ক্ষেত্রে সরবরাহ কিছুটা কমেছে। গত বছরের ৪৬ হাজার ৩৭১ টনের বিপরীতে এ বছর সরবরাহ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৯৯৮ টন। অর্থাৎ সরবরাহ প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমেছে।

  • ডিজেল: ২০২৫ সালের মার্চে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮ টন সরবরাহ করা হলেও এ বছরের মার্চে তা হয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫১২ টন

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সরবরাহের এই সামান্য হ্রাস খুব একটা অস্বাভাবিক নয় এবং এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

বাজারে দীর্ঘ লাইনের কারণ হিসেবে উপদেষ্টা ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাকে দায়ী করেছেন। ভবিষ্যতে দাম বাড়তে পারে বা তেল পাওয়া যাবে না—এমন শঙ্কা থেকে সাধারণ মানুষ ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুত করছেন।

পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় আমাদের দেশে তেলের দাম কম হওয়ায় পাচারের ঝুঁকি থাকে। অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এপ্রিল মাসেই এখন পর্যন্ত ৭৪টি অভিযানে ১১৪টি মামলা করা হয়েছে এবং বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ছিল:

  • ডিজেল: ১ লাখ ১৪ হাজার ১২২ টন

  • অকটেন: ১০ হাজার ১৫১ টন

  • পেট্রোল: ১৩ হাজার ৮০৫ টন

জ্বালানি খাতের বিশাল বকেয়া ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারের ওপর বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক চাপ রয়েছে। আইপিপি, আদানি পাওয়ার এবং পেট্রোবাংলাসহ বিভিন্ন খাতে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এর আগে থেকেই ৪৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির বোঝা ছিল।

উপদেষ্টা জানান, বৈশ্বিক বাজারে দাম বাড়লেও বাংলাদেশে আপাতত আগামী এক মাস জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে সংকট আরও ঘনীভূত হলে ভবিষ্যতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। সাধারণ মানুষের ওপর যেন অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সরকার সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে।

পেট্রোল নেই, অকটেন নেই- পরিস্থিতি ওরকম না : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০২:২৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে—এমন ধারণাকে নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, পেট্রোল বা অকটেন একেবারেই নেই, পরিস্থিতি মোটেও এমন নয়। তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি ও মজুদ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

উপদেষ্টা গত বছরের তুলনায় বর্তমান সময়ের জ্বালানি সরবরাহের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান:

  • অকটেন: ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চে অকটেনের সরবরাহ বেড়েছে। গত বছর সরবরাহ ছিল ৩৬ হাজার ৯৮২ টন, যা এ বছর দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৪৩৯ টনে

  • পেট্রোল: পেট্রোলের ক্ষেত্রে সরবরাহ কিছুটা কমেছে। গত বছরের ৪৬ হাজার ৩৭১ টনের বিপরীতে এ বছর সরবরাহ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৯৯৮ টন। অর্থাৎ সরবরাহ প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমেছে।

  • ডিজেল: ২০২৫ সালের মার্চে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮ টন সরবরাহ করা হলেও এ বছরের মার্চে তা হয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫১২ টন

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সরবরাহের এই সামান্য হ্রাস খুব একটা অস্বাভাবিক নয় এবং এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

বাজারে দীর্ঘ লাইনের কারণ হিসেবে উপদেষ্টা ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাকে দায়ী করেছেন। ভবিষ্যতে দাম বাড়তে পারে বা তেল পাওয়া যাবে না—এমন শঙ্কা থেকে সাধারণ মানুষ ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুত করছেন।

পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় আমাদের দেশে তেলের দাম কম হওয়ায় পাচারের ঝুঁকি থাকে। অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এপ্রিল মাসেই এখন পর্যন্ত ৭৪টি অভিযানে ১১৪টি মামলা করা হয়েছে এবং বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ছিল:

  • ডিজেল: ১ লাখ ১৪ হাজার ১২২ টন

  • অকটেন: ১০ হাজার ১৫১ টন

  • পেট্রোল: ১৩ হাজার ৮০৫ টন

জ্বালানি খাতের বিশাল বকেয়া ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারের ওপর বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক চাপ রয়েছে। আইপিপি, আদানি পাওয়ার এবং পেট্রোবাংলাসহ বিভিন্ন খাতে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এর আগে থেকেই ৪৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির বোঝা ছিল।

উপদেষ্টা জানান, বৈশ্বিক বাজারে দাম বাড়লেও বাংলাদেশে আপাতত আগামী এক মাস জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে সংকট আরও ঘনীভূত হলে ভবিষ্যতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। সাধারণ মানুষের ওপর যেন অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সরকার সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে।