দেশজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহের প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা দিয়েছে প্রোটিনের অন্যতম সহজলভ্য উৎস ডিমে। গরমে মুরগির উৎপাদন হ্রাস, খামারে মুরগি মারা যাওয়া এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার কারণে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে মুরগি পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ করছে না, যার ফলে ডিমের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এছাড়া গরম সহ্য করতে না পেরে অনেক মুরগি মারা যাওয়ায় বিশেষ করে ক্ষুদ্র অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে খাদ্য আমদানির বাড়তি খরচ। পাইকারি আড়তদারদের মতে, গরমের কারণে ডিম দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে খুচরা বাজারে।
রাজধানীর মিরপুর এলাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ফার্মের ডিম বর্তমানে ১২ থেকে ১৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় যা বেশ চড়া। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় ঠেকেছে। পাশাপাশি হাঁসের ডিমের দামও বেড়েছে—প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়, যা ডজনে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বেসরকারি চাকরিজীবী রাশেদ মাহমুদ বলেন, “সাধারণ মানুষের জন্য ডিম ছিল সুলভ প্রোটিনের উৎস। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে যেভাবে দাম বেড়েছে, তাতে আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বাজার।”
ডিমের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান বলেন, “ডিমের দাম উৎপাদন ও চাহিদার ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে। তীব্র তাপপ্রবাহে মুরগির ডিম পাড়ার হার কমেছে এবং অনেক মুরগি মারা গেছে। এছাড়া চলতি বছর বার্ড ফ্লু ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং উৎপাদন উপকরণের আমদানি খরচ বাড়ায় সামগ্রিক সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এই সাপ্লাই চেইন সংকটের কারণেই মূলত দামের এই বৃদ্ধি।”



























