দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী ‘ইউএস-বাংলা গ্রুপ’-এর নাম ব্যবহার করে কক্সবাজারে বিলাসবহুল হোটেলের মালিকানা বিক্রির নামে বড় ধরনের প্রতারণার জাল বিছিয়েছে একটি চক্র। রাজধানীর গুলশানে অফিস খুলে ‘ইউএস-বাংলা হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামক একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। তবে ইউএস-বাংলা গ্রুপ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রকল্পের সাথে তাদের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর গুলশান-১ নম্বরের এডব্লিউআর (AWR) টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় অফিস গেড়ে বসেছে এই প্রতারক চক্র। চক্রের মূলহোতা মো. জাহাঙ্গীর নিজেকে ইউএস-বাংলা গ্রুপের ‘হেড অব সেলস’ পরিচয় দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করছেন। তারা দাবি করছে, কক্সবাজারের ইনানীতে একটি ফোর-স্টার মানের হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে শেয়ার কিনলে ভবিষ্যতে বিপুল মুনাফা পাওয়া যাবে।
বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য চক্রটি ‘ইউএস-বাংলা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি আকর্ষণীয় ওয়েবসাইট তৈরি করেছে। সেখানে বিলাসবহুল ভবনের ছবি এবং মনগড়া ‘কাস্টমার রিভিউ’ ব্যবহার করা হয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস এবং ফুডি-কে নিজেদের সিস্টার কনসার্ন হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। অথচ বাস্তবে ওই এলাকায় এই নামে কোনো হোটেলের অস্তিত্ব বা নির্মাণকাজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ অংশে গুলশান-১ এলাকার এডব্লিউআর টাওয়ারের ষষ্ঠ তলার ঠিকানা দেওয়া আছে। এছাড়া ওয়েবসাইটে যোগাযোগের জন্য দেওয়া আছে +880 1994-444558 নম্বরটি। আর নম্বরটি ব্যবহার করেন এই চক্রের প্রধান জাহাঙ্গীর।
বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে চক্রটি বিভিন্ন অফার দিচ্ছে। জাহাঙ্গীর নামক ওই ব্যক্তি জানান:
-
প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা।
-
‘বৈশাখী অফারে’ ৫ লাখ টাকায় শেয়ার বুকিংয়ের সুযোগ।
-
মাত্র ১ লাখ টাকা জমা দিয়ে বুকিং নিশ্চিত করার সুবিধা।
-
কিস্তিতে টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা এবং ২০৩১ সালের মধ্যে প্রকল্প হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি।
প্রতারণার কৌশল হিসেবে চক্রটি ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকেও কাজে লাগাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে বিজয় কুমার নামে একজনকে সামনে আনা হয়, যিনি নিজেকে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা দাবি করেন। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী গ্রাহকদের প্রভাবিত করার জন্য দাবি করেন যে, তার অনেক আত্মীয় এবং পরিচিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখানে বিনিয়োগ করেছেন। তবে এসব দাবির সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা সরকারি অনুমোদন দেখাতে পারেনি চক্রটি।
এই প্রতারণার বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম স্পষ্ট জানান, ‘ইউএস-বাংলা হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামে তাদের কোনো অঙ্গ প্রতিষ্ঠান নেই। কক্সবাজারে এ ধরনের কোনো প্রকল্পও তাদের নেই। তিনি সাধারণ মানুষকে এই চক্রের সাথে কোনো ধরনের লেনদেন না করার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানিয়েছেন। একইসাথে এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
























