লাল বলের ক্রিকেটে বছরের প্রথম টেস্টে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। তার আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানালেন প্রতিদিনই ভালো ক্রিকেট খেলার কথা। অতীতের সিরিজ আত্মবিশ্বাস জোগাবে সেটাও মনে করিয়ে দিলেন তিনি।
শান্ত বলেন, ‘গত সিরিজে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। সেটা অতীত হয়ে গেছে। তবে ঐ সিরিজ আমাদের বাড়তি একটা আত্মবিশ্বাস দেবে। এই সিরিজে আমাদের আবার ভালো খেলতে হবে। প্রতিটি দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে তাহলে হয়ত ফলাফল পক্ষে আসবে। রেকর্ড নিয়ে চিন্তা করছি না। প্রতিদিন ভালো খেলাটা ইম্পরট্যান্ট।’
মিরপুরে খেলেন বলেই গড় কম এমন প্রশ্নের জবাবে শান্ত জানালেন, ‘মন খারাপ করার কিছু নেই। মিরপুরে তো সবসময় চ্যালেঞ্জ ছিল। সবসময় অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যাট করা লেগেছে। যদি ভালো উইকেটে খেলতাম বা আগে যারা খেলেছে তারা ভালো উইকেটে খেলত হয়ত গড় বা স্ট্রাইক রেট সব আরও ভালো অবস্থায় থাকত। তবে এটা তো খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণে নেই। যেমন কন্ডিশনই থাকুক সে অনুযায়ী কত ভালো ব্যাট করা যায় এটাই গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি মিরপুরের উইকেট বিশেষ করে সাদা বলের সিরিজে অনেক ভালো উইকেট ছিল আগের চেয়ে। আশা করা যায় ধীরে ধীরে ব্যাটাররা আরও ভালো ব্যাটিং করতে পারবে। গড়ও হয়ত সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হবে।’
তাসকিনকে ফিরে পাওয়া নিয়ে শান্ত জানালেন, ‘সব থেকে ভালো দিক হলো, তাসকিন সবসময় টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চায়। দুর্ভাগ্যবশত ফিটনেস বা ইঞ্জুরি ইস্যু বলুন বা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট, এসব দিক খেয়াল রাখতে গিয়ে আমরা সবসময় ওকে রাখতে পারি না। সে সবসময় খেলতে চায়। এই টেস্টের আগে ট্রেনার-ফিজিওর সাথে লম্বা আলোচনা হয়েছে। সে খেলার জন্য ফিট এ কারণেই তাকে নেওয়া হয়েছে। গত সিরিজে সে অনেক ভালো করেছে। তাসকিন যখনই দলে থাকে ক্যাপ্টেনের কাজ সহজ হয়ে যায়, দলে বাড়তি এফোর্ট পাই তার কাছ থেকে। ঐ আশা নিয়েই তাসকিন এসেছে। আশা করব এই সিরিজেও ভালো করবে। বাকি পেসারদেরও নিজেদের প্ল্যান নিয়ে ধারণা আছে; কে কখন খেলবে, কার কী অবস্থা।’
কেমন উইকেটে খেলা হবে এ নিয়ে শান্ত বলেন, ‘ভালো উইকেট হবে আশা করছি। বোলিং অ্যাটাক অভিজ্ঞ। ব্যাটার অনেকেই এই ফরম্যাটে অনেক দিন ধরে খেলছে। টেস্টে ব্যাটাররা বেশ কয়েক সিরিজ ধরে একসাথে খেলছি। অভিজ্ঞতার দিক থেকে বলব ভালো দল। উইকেট যেমনই থাকুক, ভালো পেসার স্পিনার দুই-ই আছে আমাদের। তাই প্রপার স্পোর্টিং উইকেট থাকলেই ভালো। তবে আবহাওয়ার ওপরও উইকেট নির্ভর করে। এসব জায়গায় মানিয়ে নিতে হবে। বোলার-ব্যাটাররা যেকোনো পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য রাখে।’
এতদিন পর শুধু টেস্ট প্লেয়ারদের জন্য কতটা কঠিন শান্ত বললেন, ‘এতদিন পরপর খেলা অবশ্যই কঠিন। তবে একটা চারদিনের ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছে এটা খুবই ভালো। মুমিনুল ভাই, তাইজুল ভাই, নাঈম যারাই আছে প্রত্যেকের জন্য খুবই কঠিন। মুশফিক ভাই এই ফরম্যাটই শুধু খেলছেন। তারা পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে প্রস্তুতি নেন এবং নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন। যতটা সম্ভব দলকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি খুবই খুশি যে সবাই মন থেকে পারফর্ম করার চেষ্টা করে। অনেক কিছু চাইলেও ভালো করে করা সম্ভব না পরিস্থিতির কারণে। আমরা ভালো চিন্তা করতে পারি, ভালো প্র্যাকটিস করতে পারি। এটা তারা সবসময়ই করেন।’
























