স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ এবং ওয়াশিংটনের সাথে আস্থার সম্পর্ক তৈরির লক্ষ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি ১৪ দফার প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আকস্মিক তেহরান সফরের মধ্যেই এই নতুন প্রস্তাবের বিষয়টি সামনে এলো।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের এই নতুন প্রস্তাবের বেশ কিছু শর্ত আগের প্রস্তাবগুলোর মতোই। তবে কিছু বিষয়ে আপত্তি থাকলেও কয়েকটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এবার কিছুটা নমনীয় অবস্থান দেখিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রাশিয়ায় পাঠাতে সম্মতি প্রকাশ করেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে কেবল রাশিয়ার কাছেই এই ইউরেনিয়াম পাঠাতে আগ্রহী।
প্রস্তাবে ইরান দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও, তা পুরোপুরি বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অপরদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তেহরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে।
সংশোধিত এই প্রস্তাবে ইরান একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেনি। এর বদলে ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ কমানোর মতো বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে পূর্বঘোষণা ছাড়াই তেহরানে অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে তার এই সফরের মেয়াদ বাড়িয়ে তৃতীয় দিন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সফরের মাধ্যমেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান সম্পন্ন হচ্ছে।

























