নতুন সরকারের ১০০ দিনের অপরাধ চিত্র নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআইবি) প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, যেহেতু তাদের প্রতিবেদন কেবল পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে, সেহেতু এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। টিআইবির নিজস্ব কোনো তদন্ত নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে রামিসা হত্যাকাণ্ডে দ্রুত ডিএনএ টেস্ট ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দেওয়া; দৌলতদিয়া ঘাটে আন্তরিক ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অন্তত ৫০ জন বাসযাত্রীর প্রাণ রক্ষা এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কিশোরী হত্যার ক্লুলেস মামলার দ্রুততম রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের আর্থিক পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়। মোট ১৫ পুলিশ সদস্যকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা ও সনদ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা সেটাই বাস্তবায়ন করেছি। পুলিশ কতটা জনবান্ধব হয়েছে, কতটা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে, তার স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। এতে তারা আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশে অপরাধের সংখ্যা কমেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমর্যাদা জনগণই বিবেচনা করবে। তবে তাদের নৈতিকভাবে উৎসাহিত করা প্রয়োজন, যাতে তারা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনের শাসন বাস্তবায়নে কাজ করতে পারে।
টিআইবির প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয়। প্রকৃত অপরাধচিত্র জানতে হলে পুলিশ বিভাগ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য দেখতে হবে। জেলা থেকে সংগৃহীত তথ্যই প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরে বলে তিনি দাবি করেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ১০০ দিনের অপরাধ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে মার্চ ও এপ্রিলে দেশে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, টিআইবির রিপোর্ট মূলত পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। তারা নিজেরা কোনো ঘটনা তদন্ত করে না। প্রকৃত ঘটনা বিবেচনা না করে এমন প্রতিবেদন দেওয়া ঠিক নয়। তবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রয়েছে এবং এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়।
একটি মামলার তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তারা ছয় হাজার টাকা পান—এটি যথেষ্ট কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি যথেষ্ট নয়। জাতীয় সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করেই কাজ করতে হয়। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান।

























