ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসিবিহীন বিশ্বকাপের ম্যাচে আজ আর্জেন্টিনা

মেসিবিহীন বিশ্বকাপের ম্যাচে আজ আর্জেন্টিনা

মেসিভক্তরা স্বার্থপর, তারা সব সময় চায় তাদের মায়াভরা মুখের প্রিয় ফুটবলার মেসি যেন মাঠে নামেন। মেসি মাঠে নামলে বল পায়ে হয়ে ওঠেন ম্যাজিশিয়ান। ফুটবলের সুর তাল লয়—সবকিছু তার বীণায় সুর তোলে। ঝড় এলে যেমন পাতা কাঁপে, তেমনি মেসি যখন মাঠে নামেন তখন হৃদয় শিহরিত হয়, চোখে আলো জ্বলে, রোমাঞ্চিত হয় তার ভক্তরা। কিন্তু সব সময় তো আবেগ দিয়ে চলেন না কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি তো আবেগ কিংবা ভালোবাসা—এসব কেয়ার করেন না। তার চোখে মেসিকে নিয়ে বাস্তবতা ভাবেন। তাকে নিয়েই দূরপাল্লার পথে ছুটতে হবে। তাই লম্বা রেসের ঘোড়াকে কখনো কখনো বিশ্রাম দিতে হয়। মেসিকেও জর্ডানের বিপক্ষে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। মাঠে নামলেও পরে নামবেন। কোচের কথা হচ্ছে, একাদশে নামানোর দরকার কী। জর্ডানের বিপক্ষে নেমে মেসি কেন ঝুঁকি নেবেন। যদি কোনো কারণে চোট পান। কিংবা হলুদ কার্ড, লাল কার্ড হয়ে যায়, যদি জর্ডানের কোনো ফুটবলারের রাফ ট্যাকলের কারণে মেসি আহত হন। ব্রাজিলের রাফিনহার কথা মনে নেই? কীভাবে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ল। কেউ তো রাফিনহাকে মারেনি, তাহলে রাফিনহা কেন মাঠের বাইরে। ইরানের বিপক্ষে মিশরের মোহাম্মদ সালাহ চোট পেয়েছেন। মনে নেই, বিশ্বকাপের আগে মেসি সামান্য চোট পেয়েছিলেন।

৩৯-এ পা দিয়েছেন মেসি। তার কাছ থেকে যদি সেরাটা আদায় করতে হয় তাহলে দর্শকের ভালোবাসার কথা আপাতত এক পাশে রেখে দিতে হবে। ‘জে’ গ্রুপ হতে বিদায়ের দুয়ারে জর্ডান, আনুষ্ঠানিকতা বাকি। দুই ম্যাচে পয়েন্ট শূন্য। তাই বলে জর্ডানকে খাটো করেও দেখছেন না কোচ স্কালোনি। বলেছেন, আগের দুই ম্যাচের চেয়ে কিছুটা পরিবর্তন আসবে দলে। যেভাবে আলজেরিয়া এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলে এসেছে। সেভাবেই খেলবে জর্ডানের বিপক্ষে। ডালাসের এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে আজ সকালে আর্জেন্টিনা-জর্ডান গ্রুপের শেষ ম্যাচ। সেখানেই সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্কালনি জানিয়ে দিয়েছেন, মেসি একাদশে নেই। পরে খেলবেন।’ এটাই ছিল সংবাদ সম্মেলনে ব্রেকিং নিউজ। মেসি হয়তো নামবেন, পরে। মেসির কথা বলা হলেও একাদশ ঘোষণা করেননি স্কালনি। মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০, মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-০ তে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ৩২-এ চলে গেছে। প্রথম নকআউটে আর্জেন্টিনা খেলবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুক্রবার, মায়ামি শহরে। হাতে রয়েছে জর্ডান।

কোচ স্কালোনির পরিকল্পনা—কিছু নতুন মুখ একাদশে নামবেন। বিশ্বকাপ শুরু হয় ১১ জুন। আর ১০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে মেসি একাদশে ছিলেন না। ৭০ মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন মেসি। মেসিবিহীন একটা ম্যাচের একাদশকে মাঠে নামতে দেখতে কেমন লাগে—এই ছবিটাও তো একটা স্মৃতি হতে পারে। তবে এটাও ঠিক যে, মেসি মাঠে নামুক, না নামুক, ডালাসের ফুটবল সমুদ্রে ঢেউ উঠবেই। মেসির আর্জেন্টিনা যখন মাঠে খেলবে, দর্শক কি শুধুই ১২০ গজের মাঠে তাকিয়ে রবে—তা কিন্তু না। মাঠের সাইড লাইনে, ফুটবলের ভাষায় যাকে ডাগআউট বলা হয়, মেসি সেখানেই থাকবেন। সবার চোখ সেখানেও ঘুর ঘুর করবে। টিভির দর্শক যতই বলুক ‘মেসি নাই, আগ্রহ নাই।’ চোখ রাখতেই হবে।

আজকের ম্যাচ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত বিশ্বকাপে প্রথম বার খেলতে আসা জর্ডানের কোনো প্রাপ্তি নেই। তবুও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানের ফুটবলারদের জন্য আজকের ম্যাচটা স্বপ্নের মতো। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলবেন বলে। মেসি যদি খেলেন তাহলে জর্ডানের ফুটবলারদের জন্য রোমাঞ্চ উপভোগ করার মতোই হবে। কারণ মেসিও তাদের ভালোবাসা, মায়ামমতায়, অনবদ্য ছায়াতলে রয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসিবিহীন বিশ্বকাপের ম্যাচে আজ আর্জেন্টিনা

আপডেট সময় : ১২:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

মেসিভক্তরা স্বার্থপর, তারা সব সময় চায় তাদের মায়াভরা মুখের প্রিয় ফুটবলার মেসি যেন মাঠে নামেন। মেসি মাঠে নামলে বল পায়ে হয়ে ওঠেন ম্যাজিশিয়ান। ফুটবলের সুর তাল লয়—সবকিছু তার বীণায় সুর তোলে। ঝড় এলে যেমন পাতা কাঁপে, তেমনি মেসি যখন মাঠে নামেন তখন হৃদয় শিহরিত হয়, চোখে আলো জ্বলে, রোমাঞ্চিত হয় তার ভক্তরা। কিন্তু সব সময় তো আবেগ দিয়ে চলেন না কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি তো আবেগ কিংবা ভালোবাসা—এসব কেয়ার করেন না। তার চোখে মেসিকে নিয়ে বাস্তবতা ভাবেন। তাকে নিয়েই দূরপাল্লার পথে ছুটতে হবে। তাই লম্বা রেসের ঘোড়াকে কখনো কখনো বিশ্রাম দিতে হয়। মেসিকেও জর্ডানের বিপক্ষে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। মাঠে নামলেও পরে নামবেন। কোচের কথা হচ্ছে, একাদশে নামানোর দরকার কী। জর্ডানের বিপক্ষে নেমে মেসি কেন ঝুঁকি নেবেন। যদি কোনো কারণে চোট পান। কিংবা হলুদ কার্ড, লাল কার্ড হয়ে যায়, যদি জর্ডানের কোনো ফুটবলারের রাফ ট্যাকলের কারণে মেসি আহত হন। ব্রাজিলের রাফিনহার কথা মনে নেই? কীভাবে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ল। কেউ তো রাফিনহাকে মারেনি, তাহলে রাফিনহা কেন মাঠের বাইরে। ইরানের বিপক্ষে মিশরের মোহাম্মদ সালাহ চোট পেয়েছেন। মনে নেই, বিশ্বকাপের আগে মেসি সামান্য চোট পেয়েছিলেন।

৩৯-এ পা দিয়েছেন মেসি। তার কাছ থেকে যদি সেরাটা আদায় করতে হয় তাহলে দর্শকের ভালোবাসার কথা আপাতত এক পাশে রেখে দিতে হবে। ‘জে’ গ্রুপ হতে বিদায়ের দুয়ারে জর্ডান, আনুষ্ঠানিকতা বাকি। দুই ম্যাচে পয়েন্ট শূন্য। তাই বলে জর্ডানকে খাটো করেও দেখছেন না কোচ স্কালোনি। বলেছেন, আগের দুই ম্যাচের চেয়ে কিছুটা পরিবর্তন আসবে দলে। যেভাবে আলজেরিয়া এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলে এসেছে। সেভাবেই খেলবে জর্ডানের বিপক্ষে। ডালাসের এটিএন্ডটি স্টেডিয়ামে আজ সকালে আর্জেন্টিনা-জর্ডান গ্রুপের শেষ ম্যাচ। সেখানেই সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্কালনি জানিয়ে দিয়েছেন, মেসি একাদশে নেই। পরে খেলবেন।’ এটাই ছিল সংবাদ সম্মেলনে ব্রেকিং নিউজ। মেসি হয়তো নামবেন, পরে। মেসির কথা বলা হলেও একাদশ ঘোষণা করেননি স্কালনি। মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩-০, মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-০ তে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ৩২-এ চলে গেছে। প্রথম নকআউটে আর্জেন্টিনা খেলবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শুক্রবার, মায়ামি শহরে। হাতে রয়েছে জর্ডান।

কোচ স্কালোনির পরিকল্পনা—কিছু নতুন মুখ একাদশে নামবেন। বিশ্বকাপ শুরু হয় ১১ জুন। আর ১০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে মেসি একাদশে ছিলেন না। ৭০ মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন মেসি। মেসিবিহীন একটা ম্যাচের একাদশকে মাঠে নামতে দেখতে কেমন লাগে—এই ছবিটাও তো একটা স্মৃতি হতে পারে। তবে এটাও ঠিক যে, মেসি মাঠে নামুক, না নামুক, ডালাসের ফুটবল সমুদ্রে ঢেউ উঠবেই। মেসির আর্জেন্টিনা যখন মাঠে খেলবে, দর্শক কি শুধুই ১২০ গজের মাঠে তাকিয়ে রবে—তা কিন্তু না। মাঠের সাইড লাইনে, ফুটবলের ভাষায় যাকে ডাগআউট বলা হয়, মেসি সেখানেই থাকবেন। সবার চোখ সেখানেও ঘুর ঘুর করবে। টিভির দর্শক যতই বলুক ‘মেসি নাই, আগ্রহ নাই।’ চোখ রাখতেই হবে।

আজকের ম্যাচ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত বিশ্বকাপে প্রথম বার খেলতে আসা জর্ডানের কোনো প্রাপ্তি নেই। তবুও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানের ফুটবলারদের জন্য আজকের ম্যাচটা স্বপ্নের মতো। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলবেন বলে। মেসি যদি খেলেন তাহলে জর্ডানের ফুটবলারদের জন্য রোমাঞ্চ উপভোগ করার মতোই হবে। কারণ মেসিও তাদের ভালোবাসা, মায়ামমতায়, অনবদ্য ছায়াতলে রয়েছেন।