আগামীকাল সোমবার (১৩ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে যাচ্ছেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে গোটা দক্ষিণাঞ্চলে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের প্রত্যাশা।
সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সকালে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এরপর বরিশাল শহরের বেলস পার্কের কাছাকাছি জায়গায় আরও একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
দুপুরের পর বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় ও সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। এছাড়া দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও ধর্মীয় নানা বিষয় নিয়ে শীর্ষ আলেম-ওলামাদের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।
এই সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মূলে রয়েছে বেশ কিছু পুরনো অবকাঠামো প্রকল্প। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হলো ঢাকা-বরিশাল ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণের দাবি। এ ছাড়া বরিশালে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) গড়ে তোলা, ভোলা-বরিশাল সেতু তৈরি এবং পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের বিষয়েও সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চাইছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প স্থাপন, নতুন কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। এতে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-বৈষম্যও অনেকটাই কমে আসবে বলে তাদের বিশ্বাস।
সফরকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশালের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, জনসমাগম সামলানো এবং সার্বিক সমন্বয়ের বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে চলছে আনন্দ মিছিল ও প্রচার কার্যক্রম। দলীয় কার্যালয়গুলোতেও দেখা যাচ্ছে একই রকম উৎসবমুখর পরিবেশ।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এইচ এম তসলিম উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা কাজ করছে এবং প্রতিদিনই বিভিন্ন উপজেলায় স্বাগত মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
একই বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান আক্তার শিরিন জানান, বরিশালবাসী প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে বরণ করতে প্রস্তুত। তার মতে, এই সফর কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে তিনি আশাবাদী।
রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ধারণা, সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের এই প্রথম বরিশাল সফরের রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক তাৎপর্য অনেক বেশি। বিশেষত দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মেগা প্রকল্পগুলো নিয়ে যদি এই সফরে সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা আসে, তাহলে তা এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে বলে মনে করছেন তারা।
























