ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, ত্রাণ-চিকিৎসায় গুরুত্বারোপ

বন্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, ত্রাণ-চিকিৎসায় গুরুত্বারোপ

টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করারও নির্দেশনা দেন তিনি।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনরা নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার হালনাগাদ চিত্র তুলে ধরেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, আশ্রয়কেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান এই দুর্যোগে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে দ্রুততার সঙ্গে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, নিরাপদ খাবার পানি, শিশুখাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর নির্দেশ দেন তিনি।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধা এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশনাও দেন তিনি।

দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দুর্যোগের সুযোগে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি বা ত্রাণ আত্মসাতের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।

সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম, উদ্ধার অভিযানে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

সভায় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা জানান, সেখানে জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, আর রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, ত্রাণ-চিকিৎসায় গুরুত্বারোপ

বন্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, ত্রাণ-চিকিৎসায় গুরুত্বারোপ

আপডেট সময় : ০৫:১৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করারও নির্দেশনা দেন তিনি।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনরা নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার হালনাগাদ চিত্র তুলে ধরেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, আশ্রয়কেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান এই দুর্যোগে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে দ্রুততার সঙ্গে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, নিরাপদ খাবার পানি, শিশুখাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছানোর নির্দেশ দেন তিনি।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধা এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশনাও দেন তিনি।

দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দুর্যোগের সুযোগে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি বা ত্রাণ আত্মসাতের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।

সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম, উদ্ধার অভিযানে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

সভায় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা জানান, সেখানে জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, আর রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট সবাইকে।