ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে পানির পাম্পে মার্কিন হামলা, হতাহত ৫

ইরানে পানির পাম্পে মার্কিন হামলা, হতাহত ৫

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা বাহরাইনের মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং ওমানের রাডার ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি’র দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনের জুফাইর এলাকার স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে এবং ওমানের দুটি রাডার ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, যতক্ষণ পর্যন্ত ওই এলাকায় মার্কিন সামরিক তৎপরতা বন্ধ না হবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে না।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের পর তা প্রতিহত করা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, তাদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জন্য ব্যবহৃত হতে দেওয়া যাবে না। মন্ত্রণালয় জানায়, যেখান থেকেই হামলা পরিচালিত হবে, সেই স্থানও ইরানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টার মার্কিন হামলাকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি-নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখনো খোলা রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র রাতভর ইরানে “প্রবলভাবে” হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানের সদ্য গঠিত পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথাকথিত “অবৈধ তৎপরতার” কারণে এই মুহূর্তে প্রণালি দিয়ে চলাচল সম্ভব নয়।

এর আগে ওমান জানায়, মুসান্দাম ও আল-উসতা প্রদেশে ড্রোন হামলার প্রতিবাদে তারা ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও—রোববার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছেছে, আর মার্কিন ক্রুডের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ, যা ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

গত ৭ জুলাই থেকে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একের পর এক হামলা-পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৪০টি ইরানি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করে, যার জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও ওমানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ পরবর্তীতে একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মাধ্যমে সাময়িক বিরতিতে গেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সীমিত আকারে হামলা অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতায় ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজ বন্ধ করলো শুভেন্দু সরকার

ইরানে পানির পাম্পে মার্কিন হামলা, হতাহত ৫

আপডেট সময় : ১১:৫৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা বাহরাইনের মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং ওমানের রাডার ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি’র দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনের জুফাইর এলাকার স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে এবং ওমানের দুটি রাডার ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, যতক্ষণ পর্যন্ত ওই এলাকায় মার্কিন সামরিক তৎপরতা বন্ধ না হবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে না।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের পর তা প্রতিহত করা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, তাদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জন্য ব্যবহৃত হতে দেওয়া যাবে না। মন্ত্রণালয় জানায়, যেখান থেকেই হামলা পরিচালিত হবে, সেই স্থানও ইরানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টার মার্কিন হামলাকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি-নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখনো খোলা রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র রাতভর ইরানে “প্রবলভাবে” হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানের সদ্য গঠিত পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথাকথিত “অবৈধ তৎপরতার” কারণে এই মুহূর্তে প্রণালি দিয়ে চলাচল সম্ভব নয়।

এর আগে ওমান জানায়, মুসান্দাম ও আল-উসতা প্রদেশে ড্রোন হামলার প্রতিবাদে তারা ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও—রোববার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছেছে, আর মার্কিন ক্রুডের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ, যা ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

গত ৭ জুলাই থেকে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একের পর এক হামলা-পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৪০টি ইরানি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করে, যার জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও ওমানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ পরবর্তীতে একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মাধ্যমে সাময়িক বিরতিতে গেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সীমিত আকারে হামলা অব্যাহত রয়েছে।