কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটির বেশ কয়েকটি হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। রোববার পরিচালিত এক ড্রোন অভিযানে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ।
আইআরজিসির দেওয়া বিবৃতির ভিত্তিতে গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফার্স নিউজ জানায়, নিখুঁত পরিকল্পনায় চালানো এই ড্রোন হামলায় কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা একাধিক হিমার্স লঞ্চার অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্যমতে, ইরানের ভূখণ্ডে আঘাত হানার জন্যই এসব লঞ্চার প্রস্তুত রাখা হচ্ছিল।
তবে ঠিক কতটি লঞ্চার ধ্বংস হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করেনি আইআরজিসি। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, রোববারের এই অভিযানে অন্তত তিনজন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
হিমার্স মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত একটি অত্যাধুনিক মাল্টিপল রকেট লঞ্চিং সিস্টেম, যা হালকা ও ট্রাকের ওপর স্থাপনযোগ্য। পাঁচ টন ওজনের ট্রাক চ্যাসিসে বসানো এই ব্যবস্থাটি এমনভাবে ডিজাইন করা, যাতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই তা শত্রুপক্ষের রাডার শনাক্তের আগেই স্থান ত্যাগ করতে পারে— যা সামরিক পরিভাষায় পরিচিত ‘শুট অ্যান্ড স্কুট’ কৌশল নামে।
এই ব্যবস্থা থেকে ছোড়া রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ পাঁচশ কিলোমিটার দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতেও নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
ইরানের এই দাবি সংক্রান্ত ড্রোন হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েত—কোনো পক্ষ থেকেই এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রায় তিন মাস পর, ১৭ জুন ইসলামাবাদে এক শান্তিচুক্তিতে সই করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কিন্তু এই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। গত ৫ জুলাই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে আইআরজিসির হামলার ঘটনার পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় দুই দেশের মধ্যে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।























