জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ১২.৬৫ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে সামনে এসেছে। কৃষ্টপুর মৌজার এই জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আদালতের রায় উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলেছে বিবাদীপক্ষ। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে কালাই প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন মোহসীন আলী।
লিখিত বক্তব্যে মোহসীন আলী জানান, ১৯৩২ সালে জমিদার কালীকেশ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে আব্দুল মজিদ ফকির ও মারফত জামান ফকির এই জমি পত্তন নিয়েছিলেন। এরপর থেকে তারা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে জমি ভোগদখল করে আসছেন। ফলে তাদের নামে এমআরআর খতিয়ানও প্রস্তুত হয়েছে।
একাধিক মামলা ও আদালতের রায়
জমি নিয়ে ১৯৬৬-৬৭ সালে আরডিসি আদালতে মামলা হয়। পরে ১৯৯৪ সালে জয়পুরহাট সাব-জজ আদালতেও মামলা দায়ের হয়। বিবাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী, উভয় মামলার রায় তাদের পক্ষেই গেছে।
এরপর জেলা জজ আদালতে আপিলে আংশিক ডিক্রি দেওয়া হয়। এই রায়ে ৪৩৩ ও ৫১০ নম্বর প্লটের নির্দিষ্ট অংশে স্থানীয় জনগণের প্রথাগত সহজাধিকার, কবরস্থান ও ঈদগাহ ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকৃত হয়। পাশাপাশি অবশিষ্ট জমিতে বিবাদীপক্ষের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় বলে তারা জানান।
বাদীপক্ষ পরে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন করলে আদালত জেলা জজের রায় বহাল রাখেন। এরপর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। বর্তমানে বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
স্থিতাবস্থা উপেক্ষার অভিযোগ
বিবাদীপক্ষের দাবি, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল আদালত সম্পত্তির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছিলেন। তবে এই আদেশ উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষ খলিলুর রহমানের ছেলে হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে জমিতে প্রবেশ ও দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
প্রতিকারের দাবিতে আবেদন
এই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিবাদীপক্ষ। তারা সংশ্লিষ্ট দলিল ও আদালতের রায় যাচাই করে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের সুষ্ঠু ও স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোহসীন আলী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শাহ আলম, মতিউর রহমান, মোশাররফ হোসেন ও মোত্তালেব ফকির।
























