অর্থ বাণিজ্য সংবাদ: বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল আজ। মহানবী (সা.)-এর জীবন, শিক্ষা, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ স্মরণের মধ্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা দিনটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করছেন।
বাংলাদেশেও ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। এ উপলক্ষে আজ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে। একই কারণে আজ সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সততা, দয়া, সহমর্মিতা, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর প্রচারিত ইসলামের শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বোধের বাণী আরব সমাজে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা করে।
আল-আমিন মহানবী (সা.)
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কার সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের আগেই তাঁর বাবা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি মা আমিনা (রা.)-কে হারান। এতিম অবস্থায় বেড়ে উঠলেও শৈশব থেকেই তাঁর চরিত্রে সততা, আমানতদারি, সংযম ও উত্তম নৈতিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে। মক্কার মানুষ তাঁকে ভালোবেসে ‘আল-আমিন’—বিশ্বস্ত ও আমানতদার হিসেবে অভিহিত করতেন।
তিনি এমন এক সময়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন আরব সমাজ নানা ধরনের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত ছিল। পৌত্তলিকতা, কুসংস্কার, গোত্রীয় সংঘাত, হিংসা, অন্যায় ও বৈষম্য সমাজজীবনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল। এমন পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ তাঁকে মানবজাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেন।
নবুওয়াত ও ইসলামের প্রচার
৪০ বছর বয়সে মক্কার হেরা গুহায় মহানবী (সা.)-এর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়। এর মধ্য দিয়ে তাঁর নবুওয়াতের দায়িত্ব শুরু হয়। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানান এবং মিথ্যা, জুলুম, শোষণ ও বৈষম্য পরিহার করে ন্যায়, সততা, দয়া ও মানবিকতার পথে চলার শিক্ষা দেন।
মক্কায় ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে মহানবী (সা.) ও তাঁর অনুসারীদের কঠিন নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। পরবর্তীতে আল্লাহর নির্দেশে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। সেখানে তিনি ন্যায়, শান্তি, পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও সহাবস্থানের ভিত্তিতে একটি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
মানবতার মহান শিক্ষক
প্রায় ২৩ বছর নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করে মহানবী (সা.) মানুষকে সত্য ও কল্যাণের পথে আহ্বান করেন। তাঁর জীবনজুড়ে দয়া, ক্ষমাশীলতা, সহিষ্ণুতা ও মানবিকতার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। এতিম, দরিদ্র, অসহায়, নারী, শিশু এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
তাঁর জীবনাদর্শ শুধু ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে ন্যায়, সততা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষাও তাঁর আদর্শের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা আজও শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত।
নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিনটি
মহানবী (সা.) ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাত মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে অত্যন্ত বেদনাবিধুর ঘটনা। তাঁর সাহাবিদের কাছে তিনি ছিলেন সবচেয়ে প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া, দান-খয়রাত ও বিভিন্ন নফল ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি পালন করছেন। অনেকেই নফল রোজা রাখছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল, ওয়াজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়েই মুসলিম বিশ্বে দিনটি পালিত হচ্ছে।



























